জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পর্যটন দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে চিকিৎসার অজুহাতে এসে প্রতারণার এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে আয়োজিত তথা কথিত ‘খতনা ক্যাম্প’-এর শিকার হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে অনেক শিশু। ভুল চিকিৎসা, নিম্নমানের ব্যান্ন্/ডিভাইস ও অপেশাদার পদ্ধতির কারণে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০ জনের অধিক শিশু গুরুতর ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন হাসপাতালের ডা: শহিদুল আলম। এদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন আগে খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া পরিচালিত আল- মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন মধ্যবাড়েরা সদর, মোমেনশাহী, ময়মনসিংহ এর উদ্যোগে ৩রা ও ৪টা অক্টোবর দুই দিন ব্যাপি মেডিকেল ক্যাম্প ও সুন্নতে খতনা অনুষ্টিত হয় । প্রায় ১৫০ জনের একটি প্রতিনিধি দল চিকিৎসার নাম করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আসে। দ্বীপে পৌঁছানোর পরই তারা শিশুদের খতনা (মুসলমানি) করানোর উদ্যোগ নেয়। প্রথম ১০০ জন শিশুর কাছ থেকে ১০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শিশুর জন্য ৭০০ টাকা করে ফি আদায় করে তারা। এভাবে শত শত শিশুর খতনা করায় চক্রটি। এরপর আজ সকালে আকস্মিক ভাবেই পুরো দলটি দ্বীপ ত্যাগ করে।
দলটি চলে যাওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের শরীরে জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া এবং তীব্র সংক্রমণে শিশুরা যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। আজ সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫০ জনের অধিক শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেন্টমার্টিন হাসপাতালে ৫০ জনের অধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের সকলেরই খৎনা জনিত ইনফেকশন বলে জানান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার, অপরিকল্পিত সেলাই, সঠিক ওষুধ না দেওয়া এবং অপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লোকদের দিয়ে এই সংবেদনশীল কাজ করানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভর্তি হওয়া অনেক শিশুরই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ডা: শহিদুল আলম বলেন, একই ডিভাইস দিয়ে একাধিক জনকে খৎনা, পর্যাপ্ত ঔষধ ও উপদেশ দিয়ে না দেওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে । এদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম কে ফোন করলে তিনি জানান তেমন কোন সমস্যা হয় নাই, শুধুমাত্র একটা বাচ্চার একটু ইনফেকশন হয়েছে, এত অধিক সংখ্যক বাচ্চার বিষয় টা তিনি কোন ভাবেই স্বীকার করতে নারাজ । বলেন এগুলো কুৎসা রটানো হচ্ছে আর দায়িত্বশীল ডাক্তার বলতেছে অবস্থা শোষনীয় । এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, খৎনা ক্যাম্প এর বিষয়ে এবং এত বাচ্চার ইফ্কেশন হওয়ার বিষয়ে আমি কোন কিছু জানি না আমার কাছে কোন তথ্য নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে বারবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই ।
দ্বীপের গুরুতর হওয়া এক শিশু মো: ফয়সাল, পিতা সালামত উল্লাহ, মা নুর বাহার, বয়স-১২, তার সাথে মোবাইলে কথা বলে জানা যায়, অবস্থা খুবই খারাপ , অনেক গুলো বাচ্চার একই অবস্থা বলে জানান, তিনি বলেন, রাত্রে স্পীড বোট না পাওয়ায় ছেলেকে টেকনাফ নিতে পারি নাই, আল্লাহ বাচিয়ে রাখলে সকালে নিয়ে যাব ।
এই বিষয়ে জানতে আল- মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর ০১৭২৭-২৭৪৮২৬, ০১৬০১-২৭৪৮২৯ দুইটা ফোন নং এ একাধিক বার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই ।
প্রতারক এই চক্রের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে এই ভুয়া চিকিৎসা চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনানুগ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


