এস এম মনিরুজ্জামান, স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় কিটক্যাট চকলেটের চালানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর হাতে দুই বস্তা ভারতীয় কিটক্যাট চকলেটসহ দুই ব্যক্তিকে আটকের পর এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের অভিযানে এক বস্তা চকলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভূরুঙ্গামারী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশের গলিতে একটি অটোরিকশাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, আটক ব্যক্তিদের একজন কাজী মারুফ তাদের জানান, অটোরিকশায় থাকা দুই বস্তা ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট যুবদল নেতা আরিফের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা বিষয়টি জানিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় ফোন করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাননি। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত আরিফ ঘটনাস্থলে এসে জোরপূর্বক অটোরিকশাসহ আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনকে জানানো হলে তিনি রাতেই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে এক বস্তা ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট উদ্ধার করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে মহাসড়কে টহল চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল আরোহী রাস্তার ওপর একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেই বস্তা থেকে ২৭টি প্যাকেটে থাকা মোট ৫৪৬ পিস ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “এক বস্তা চকলেট ও আরিফ হোসেন নামের এক যুবককে আমার অফিসে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শান্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, “আরিফ আমাদের দলের লোক। তবে গত রাতের ঘটনা সম্পর্কে আমার কোনো জানা নেই।”
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চকলেট আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


