নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যশোর নগর ও সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দুটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ডিসেম্বর) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) যশোর জেলা শাখার আয়োজনে যশোর পৌর সদরের এম এস টি পি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ এবং সদর উপজেলার ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৃথকভাবে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
মেডিকেল ক্যাম্প দুটির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করেই বিএনপি রাজনীতি করে। প্রয়াত তরিকুল ইসলাম এই অঞ্চলে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ও তরিকুল ইসলামের রাজনীতি ছিল মানুষের জন্য রাজনীতি—মানুষের সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে পাশে থাকার রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের ভোটাধিকার বারবার হরণ করা হয়েছে। সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতেও দলটি আন্দোলন চালিয়ে গেছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তরিকুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৮ বছর পরও সেখানে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—আগামীতে জনগণের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দুটি মেডিকেল ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মেডিকেল ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানকারী ড্যাব নেতা ফারুক এহতেশাম পরাগ জানান, দুটি ক্যাম্পে মেডিসিন, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি, নেফ্রোলজি, নিউরোমেডিসিন, গাইনী, শিশু, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, সার্জারি ও ডেন্টালসহ মোট ১৩টি বিষয়ে ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। প্রতিটি রোগীকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কোনো রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হলে সেটিও বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি আগামী তিন মাস পর্যন্ত রোগীদের ফলোআপ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



