মোঃ তানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের টানাপোড়েনের জেরে চারদিন ধরে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববারও স্বাভাবিক হয়নি এ রুটের পরিবহন ব্যবস্থা, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
আগে থেকে টিকিট কেটে অনেক যাত্রী বাস কাউন্টারে এসে জানতে পারছেন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ লোকাল বাস কিংবা সীমিত সংখ্যক চলমান পরিবহন ব্যবহার করে ঢাকায় যাতায়াত করছেন। অচলাবস্থা কবে কাটবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় যাত্রীরা উদ্বেগ ও দুর্ভোগে রয়েছেন।
তবে একতা ট্রান্সপোর্ট নামে একটি বাস প্রতিষ্ঠান তাদের চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে বলে জানা গেছে।
মালিকরা জানিয়েছে, শ্রমিকদের দাবি প্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চালকের ট্রিপপ্রতি বেতন ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৫০, সুপারভাইজারের ৫০০ থেকে ৭৫০ এবং সহকারীর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।
এর পর তারা নতুন করে দাবি তুলেছে, যাত্রাবিরতির খাবারের হোটেল বিল কোম্পানিকে দিতে হবে, ডিউটি ২৪ ঘণ্টা হলে খোরাকি দিতে হবে, এসি কোটের ২০টি টিকিট বিক্রি হলে একটি ও ফুল হলে দুইটি দিতে হবে। রাজশাহীর ট্রিপ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেতন দিতে হবে। শ্রমিকদের নতুন এ দাবির প্রেক্ষিতে তারা বাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতার জন্য আলোচনা চলছে। তবে সমাধান না হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধই রয়েছে।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় এক সভায় প্রায় এক যুগ পর পরিবহনশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে সেই চুক্তি অনুযায়ী মালিকেরা টাকা না দিয়ে উল্টো পরিবহন ধর্মঘট ডাকেন। আগে একজন চালক ঢাকা রুটে এক ট্রিপ দিয়ে আসার পর ১ হাজার ২৫০ টাকা পেতেন। এখন সেটি বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৫০ টাকা করা হয়েছিল। সভায় রাজি হলেও এখন মালিকেরা সেই টাকা দিচ্ছেন না। বরং পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না।



