কাজী রেজওয়ান হোসেন সান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি//
জয়পুরহাটে এবার শশার বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা, মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।
জয়পুরহাটে ভাদসা ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার এলাকার সব চেয়ে বড় শশার পাইকারী বাজার। এখানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন পাইকারী ব্যবসায়ী শশা কেনে। প্রতিদিন প্রায় ২০/২৫ ট্রাক৷ শশা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে যায়।
গোপালপুর বাজারে দিয়ে দেখা যায়, পাইকাররা শশা কিনে স্তুপ করে রাখছে কেউ ক্রয়কৃত শশা বস্তায় ভরে ট্রাক লোড দেবার আয়োজনে ব্যস্ত। কথা হয় মহুরুল গ্রামের শশা চাষী মো: রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আমি ১০ কাঠা জমিতে এবার শশা লাগিয়েছি। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই মণ শশা পাই। আমার বাড়ি থেকে গোপালপুর দূরে হলেও ভাল দাম পাওয়ায় এখানে শশা বিক্রি করতে আসি। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করেছি, আরো ৪০ হাজার টাকার শশা বিক্রি হবে। গোপালপুরের শশা চাষী মো: রনি বলেন, গত বছর শশা ভাল হয়নি। তাই কোন রকমে খরচ উঠাতে পেরেছিলাম। এবার ভাল ফলন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে শশা লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করেছি। বাজার ভাল থাকলে আরো ১ লক্ষ টাকার শশা বিক্রি হবে ইনশাল্লাহ।
শশা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৪৫/৫০ দিনের মধ্যে শশার ফলন শুরু হয়। ফলন শুরুর একমাস খুব ভাল পরিমানে শশা তোলা হয়। পরে আরো এক মাস শশা তোলা যায় তবে ধীরে ধীরে পরিমান কমতে থাকে। এ বছর বিঘা প্রতি প্রায় ৫/৬ মণ শশা হচ্ছে। পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজকে শশা ১৪০০ টাকা মণ কিনেছে। তবে এই দাম ওঠানামা করে। কিছু দিন ধরে প্রতিমণ শশা ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
এবার জয়পুরহাটে ভাদসা, কোঁচকুড়ি, দূর্গাদহ, রসূলপুর,ফরিদপর, চক-কামালসহ এর আসেপাশে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে শশা চাষ করা হয়েছে। শশা চাষ লাভ জনক হওয়ায় শশা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।


