পারভেজ হাসান, বেরোবি//
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আজ ১২ অক্টোবর উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পূর্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেরোবি শিক্ষা ও গবেষণাকে জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু একবার বলেছিলেন—দেশ ভালো হয় তখনই, যখন তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখায়। উন্নত বিশ্বের অগ্রগতির পেছনে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরই অবদান।”
উপাচার্য জানান, বেরোবিকে গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এর অংশ হিসেবে গবেষকধর্মী শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাবৃত্তি, ডিন অ্যাওয়ার্ড চালু এবং নিয়মিত রিসার্চ জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণ, নতুন হল ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নসহ শিক্ষক নিয়োগে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হচ্ছে।”
ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা পূর্বের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন সিট বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করা হয়েছে।”
উপাচার্য জানান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC) নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও গবেষণা সেমিনারের আয়োজন করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চা এগিয়ে নিতে শিগগিরই ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমির সহায়তায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের পৈতৃক বাড়িতে একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
ড. শওকাত আলী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের গবেষণা, শিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে সফলভাবে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।
গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায় ও মানবিকতার পথে অনুপ্রাণিত করবে।”
শেষে তিনি বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গঠনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন।”



