আরিফুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (বগুড়া):
ইসলামের দাওয়াতের আলোকবর্তিকা ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সম্মান জানাতে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক অভূতপূর্ব ওলামা-মাশায়েখ সমাবেশ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শরীর ভিজিয়ে সমাবেশে অংশ নেন প্রায় তিন হাজার ওলামা-মাশায়েখ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার উথলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ১,০৬৮টি জামে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা একত্রিত হয়ে যে দৃশ্য সৃষ্টি করেন, তা শিবগঞ্জের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। মসজিদের উন্নয়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দুঃখ-কষ্ট, সামাজিক মর্যাদা ও তাদের পাশে বিএনপির অঙ্গীকার—এসব বিষয়েই ছিল আলোচনা।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়ানোর মাধ্যমে সমাবেশের উদ্বোধন হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন,
“ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠস্বরেই এ ভূখণ্ডে ভোর হয়, সন্ধ্যা নামে। তাদের সম্মান রক্ষা করা শুধু দায়িত্ব নয়, বিএনপির অঙ্গীকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযুক্ত করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে আলেমদের সম্মানের জায়গায় রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ওলামা-মাশায়েখদের সম্মান করেন ও ভালোবাসেন। বিপরীতে শেখ হাসিনা আলেমদের ওপর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। এজন্যই তাকে কার্গো বিমানে পালাতে হয়েছে। সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আলেমদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা বিএনপি পরিবার গর্বিত।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সকল ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সর্বোচ্চ সম্মাননা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঐতিহাসিক মাজার মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা ইমদাদুল হক। তিনি বিএনপির এই আয়োজনকে “ধর্ম ও সমাজ রক্ষায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাস্থান মাহী সওয়ার মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম তাজুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি বুলবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আলম মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ মাস্টার, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উপজেলার ১৩৫টি মসজিদ ও ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সহযোগিতা ও মীর শাহে আলমের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল মসজিদের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান মীর শাহে আলম।
স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি বিএনপির ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।


