মনিরুজ্জামান মনির: শেরপুর প্রতিনিধিঃঃ
ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় (ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী) মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। গত সাত মাসে এসব চক্রের হাতে অন্তত ১২ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট রাতে ঝিনাইগাতীতে দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা সংবাদদাতা খোরশেদ আলমের ওপর হামলার ঘটনা এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘালয় সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ পথে মাদক, প্রসাধনী ও বিভিন্ন পণ্য আসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকরা টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের একের পর এক অভিযানেও সীমান্তের চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য কমছে না। আটক হচ্ছেন কেবল বহনকারীরা; অথচ মূল হোতারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২৩ জানুয়ারি শ্রীবরদীর কর্ণঝোড়া এলাকায় মাদকের চালান ভিডিও করতে গেলে চার সাংবাদিকের গাড়িবহরে হামলা চালায় ডন মাসুদ ও তার সহযোগীরা।
৯ মে নালিতাবাড়ীর বাইপাস চৌরাস্তা এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি শফিউল আলম সম্রাট।
২৬ মে কাটাবাড়ি পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সফরের সময় সাংবাদিকদের ওপর চোরাকারবারি গডফাদার মিজান চেয়ারম্যানের বাহিনী হামলা চালালে অন্তত ৬ সাংবাদিক আহত হন।
সর্বশেষ ১৫ আগস্ট ঝিনাইগাতীর সন্ধ্যাকূড়া সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক খোরশেদ আলম।
মামলা হলেও মুক্ত আসামিরা,
প্রতিটি ঘটনায় মামলা হলেও অধিকাংশ আসামি দ্রুত জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। কেউ কেউ উচ্চ আদালতের জামিনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করলেও অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি। সচেতন মহলের মতে, প্রায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক এখন কার্যত চোরাকারবারিদের নিরাপদ জনপথে পরিণত হয়েছে।
শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা দুঃখজনক। আমাদের দমন করা যাবে না। বন ও পরিবেশ উপদেষ্টার সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলেও মূল আসামি মিজান চেয়ারম্যান এখনও গ্রেপ্তার হয়নি—এটাই সবচেয়ে হতাশাজনক।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এসব অপরাধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।


