মো: সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি।
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে প্রচারিত হওয়ার পর সিএমপি কমিশনার নিজে একটি প্রতিবাদপত্র দেন। যেখানে সংবাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকি মূলক বার্তা দেয়া হয়েছে। একই সাথে ২০ আগস্ট ২০২৫ইং বুধবার সন্ধ্যায় তিন মাল্টিমিডিয়ার সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের প্রতি সিএমপি কমিশনারের হুমকির ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক ও গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছে রাঙামাটির সিএইচটি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সাংবাদিকরা সমাজ ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রতি হুমকি শুধু ব্যক্তি সাংবাদিকের জন্য নয়, বরং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে মানুষের কথা বলার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু যখন ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তি বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন, তখন তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের হুমকি রাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।
সিএইচটি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে জানায়, সাংবাদিকদের কলম ও ক্যামেরা দিয়ে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব কেউ কোনো হুমকি দিয়ে থামাতে পারবে না। তাঁরা অবিলম্বে সিএমপি কমিশনারের এ ধরনের হুমকি প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আমরা মনে করি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হুমকি বা অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কর্মকাণ্ড শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সাথে বর্তমান সরকারের মুক্ত গণমাধ্যম নীতিরও পরিপন্থী। নিয়মতান্ত্রিক পন্থা হচ্ছে, যেকোন সংবাদ প্রচারিত- প্রকাশিত হলে তার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তা না করে সাংবাদিকদের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের অনিয়মকে আড়াল করার যে প্রয়াস চালানো হচ্ছে, তা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছি- সংবাদ মাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সত্য দমন করা যাবে না।
আমরা এটাও লক্ষ্য করছি, গত কয়েকমাস ধরে তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সিএমপির বিভিন্ন স্তরে অসহযোগিতার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। যা সঠিক তথ্য পরিবেশনে অন্তরায়।
আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই- সাংবাদিক সমাজ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে নির্ভীকভাবে কাজ করে যাবে। পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত হুমকিমূলক বিবৃতিটি আমরা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন, সিএইচটি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন , রাংগামাটির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম , সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম , সহ-সাধারণ সম্পাদক মিকেল চাকমা, অর্থ সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান সাব্বির , সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজিম আলী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মিজানুল ইসলাম , নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে- মোঃ মেহেদী , মোঃ সাখাওয়াত, মোঃ নাঈম এবং মোঃ জাহিদুল ইসলাম।


