মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে//
হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। অনেকটা হিসাব মিলাতে পারছে না রাজনীতিবিদরা। স্বৈরাচারী আওয়ামলীগ ক্ষমতা ছাড়ার পরবর্তী সময়ে অন্তবর্তী সরকার এখনো পর্যন্ত একটা দিন সঠিকভাবে অফিস কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে পারেনি। রাজধানীতে প্রতিদিন কোন না কোন দাবি আদায়ের আন্দোলন বা রাজনৈতিক সমাবেশ অস্থির করে তুলেছে পুরো অঙ্গনকে। ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্নভাবে তাদের অবস্থার জানান দিতে চাই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখনো পড়ে আছে সরকারি কর্মকান্ড। আপনাদের ভেতরে ফ্যাসিজম লুকিয়ে থাকার কারণে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সঠিকভাবে কার্য সম্পাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার।
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝেও আওয়ামী মনোভাব রয়েছে প্রায় প্রতিটা দপ্তরে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের আমলে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা বেশি তাই সে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী বিভিন্ন কৌশলে সরকারকে অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে প্রতিটা দপ্তরে আওয়ামী গরনার লোকজন সেট করে ফেলেছিল। তাই সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। হঠাৎ করে সবাইকে বদলি করা বা বরখাস্ত করার মত কঠিন সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না কারণ তাদেরকে দিয়েই কাজ সম্পাদন করতে হবে যেকোনো কৌশলে। নিচে থেকে উপর পর্যন্ত যে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করে চাকরিতে রয়েছে তারা বিভিন্নভাবে এক হয়ে আওয়ামীলীগকে ফেরানোর চেষ্টায় রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও একটি পক্ষ নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টায় রয়েছে বলে মনে হয়। কারণ বাংলাদেশে এখন বড় রাজনৈতিক মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অবস্থান সবচাইতে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং আগামীতে ভোটের মাধ্যমে তারাই সরকার গঠন করার সম্ভাবনা খুব বেশি। মাঠ পর্যায়ে ভোটের হার বেশি হল বিএনপির। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অনেক ছোট দলের ইচ্ছা রয়েছে বলেই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে গত কিছুদিন ধরে। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগ দেশের বাইরে বসে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পায় তারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার জন্য দেশের বিভিন্ন দপ্তরে এবং কিছু দলের কাছেও অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে বলেও অনেকের অভিমত। সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে ভারতে শেখ হাসিনার কাছে ২৫০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য। তাই অনেকটা উঠে পড়ে লেগেছে আওয়ামী সমর্থিত দলগুলো এবং তাদের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের একটাই উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচন যাতে সঠিকভাবে না হয় এবং যেকোনো মূল্যে আওয়ামীলীগকে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় করা।
গতকাল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায় ভ্রমণ করে প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদী বিরাজমান। জাতীয় পার্টি অফিসে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে জমায়েত হয়েছিল তাদের নেতাকর্মীরা মূলত আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির ব্যানারে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হচ্ছে বলে রাজনীতিবিদদের ধারণা এবং তাদের অভিযোগ। যেখানে প্রশাসন গিয়ে নূরের ওপর হামলার ব্যবস্থা নিবে সেখানে উল্টো তাকে হামলার শিকার হতে হল এটা রাজনীতির ময়দানে অশনি সংকেত বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য কিছু কিছু রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনিক লোকজন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এটা তারই প্রমাণ। এক প্রকার হঠাৎ করে অশান্ত হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক ময়দান। নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনা ছোট করে দেখার মত কিছু নেই এটা ফ্যাসিবাদীদের অনেকটা সাহস ডুবিয়েছে এই সময়ে এসে একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান এর উপর হামলা করা।
যেকোনো মূল্যে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি রাজনৈতিক সরকারের হাতে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তবর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব শেষ করার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। এখন দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠুভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার কাজে মনোযোগী হতে হবে।


