এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার:
কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুলোতে (এনজিও/আইএনজিও) স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি’র যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত জনগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
৯ ই জুলাই কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাহ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহা পরিচালক (সচিব) বরাবর লিখিত এক পত্রে এই দাবি জানান। চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে স্থানীয় জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এর স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহা পরিচালক বরাবর পাঠানো ওই পত্রে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনক্রমে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ব্র্যাক (BRAC), কারিতাস বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন, ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল (DRC), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (NRC), ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (IRC), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার (ACF), ইসলামিক রিলিফ, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডশিপ, মুসলিম এইড বাংলাদেশ-সহ অসংখ্য সংস্থা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার পাশাপাশি তারা হোস্ট কমিউনিটির উন্নয়নেও কাজ করছে।
চিঠিতে এমপি কাজল আরও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাস্তবতায় হোস্ট কমিউনিটির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের উন্নয়নকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
পত্রে আরও বলা হয়, কক্সবাজার জেলার যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয় জনগণকে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিও সমূহে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান পূর্বক কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে এবং রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও বেশি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণ মূলক ও টেকসই রূপ লাভ করবে। তিনি বিষয়টি মানবিক ও জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনজিও ব্যুরোর মহা পরিচালকের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


