ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের সন্তান শহীদ হাফিজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পান হাফিজুল। তার পরিবারের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, শহীদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার আঁখি দ্বিতীয় বিয়ে করার পরও সরকারি অনুদান আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সরকারি অনুদানের সুবিধার্থে হাফিজুলের স্ত্রী ও কন্যার নামে সোনালী ব্যাংক কেশরগঞ্জ বাজার শাখায় একটি বিশেষ হিসাব (নং-৩৩১২৬০১০১৭৮৬৯) খোলা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ঐ হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে করেও আঁখি ওই অর্থ এককভাবে ভোগের চেষ্টা করছেন।
শহীদ হাফিজুলের বড় ভাই মো. আব্দুল হামিদ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানান—
“আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ময়মনসিংহ জেলা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট সম্পন্ন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি নতুন সংসারে বসবাস করছেন। ফলে শহীদের পরিবার ও সন্তানের প্রতি তার কোনো দায়িত্ববোধ নেই।”
তিনি আরও জানান, শহীদের একমাত্র কন্যা সুমাইয়া আক্তার লাবিবা (০৫) বর্তমানে তাদের তত্ত্বাবধানে আছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাজীবনের সুরক্ষার জন্যই তিনি চান সরকারি অনুদান যেন সরাসরি সন্তানের স্বার্থে ব্যয় হয়। এজন্য তিনি ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে জব্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে (মোকদ্দমা নং-৫৯/২০২৫)।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক কেশরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. মোক্তার হোসেন বলেন—
“অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তবে এটি আকলিমা আক্তারের ব্যক্তিগত হিসাব। আইনগতভাবে আমরা একতরফাভাবে তা বন্ধ করতে পারি না। তবে প্রশাসনের পরামর্শে আপাতত লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটিই কার্যকর করব।”
একই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম জানান—
“শহীদ হাফিজুলের পরিবারের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যেহেতু মামলা চলমান, আদালত ও মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, প্রশাসন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শহীদের প্রকৃত উত্তরসূরী তার একমাত্র কন্যা। তাই তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সবাই বলছে—শহীদের সন্তানের অধিকার রক্ষায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হওয়া উচিত সর্বাগ্রে।


