এম কে হাসান
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজারের ১৭৩ জন আইনজীবী সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ রক্ষা এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (OHCHR) কাছে এই আবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৯ এপ্রিল ‘গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ ও সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজার জেলা সম্মিলিত আইনজীবীদের বিবৃতি’ শিরোনামে ১৭৩ জন আইনজীবীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল ঢাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রধানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদনপত্রটি হস্তান্তর করা হয়।
আবেদনে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’ অসাংবিধানিক এবং এটি সরাসরি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির চরম পরিপন্থী।
স্বাক্ষরকারী আইনজীবীরা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এই অঙ্গীকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বিবৃতিতে দলটিকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
আইনজীবীরা তাদের আবেদনে জোরালোভাবে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র জনগণের। প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির আওয়ামীপন্থী নেতা ও স্বাক্ষরকারী সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “দেশের জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কোন দল রাজনীতি করবে আর কোন দল করবে না। আমরা আইনের শাসন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে অবিলম্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।


