জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত দেখার আনন্দ রূপ নিল স্বজনদের কান্নায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি শিক্ষা সফরের বাস মহাসড়কের পাশের গভীর পুকুরে পড়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক নারী শিক্ষিকাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার ৭ ই নভেম্বর ভোর প্রায় চারটার দিকে সাতকানিয়ার কেরানী হাটের ঠিক আগে রেলবিট এলাকা পার হওয়ার পর দুর্ঘটনায় পতিত হয় বাসটি ।
দূর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইসরাফিল (৫৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে দুটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি বাস সাতকানিয়ার রেলবিট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি গভীর পুকুরে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর অন্ধকারের মধ্যেই বাসের ভেতর বাঁচার আকুতি ও চিৎকারে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কাছের একটি ইটভাটার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা বাসের জানালা ভেঙে এবং একে একে সাঁতরে যাত্রীদের উদ্ধার করতে থাকেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের টহল দল ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় কেরানীহাট এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সোহানা আফরোজ ও ইসরাফিল নামক দুই জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির পেছনে থাকা একই শিক্ষা সফরের অন্য বাসটির যাত্রীরা জানান, চোখের সামনেই সামনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দঘন পরিবেশ বিষাদে পরিণত হয়।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ও দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি নুরুল আবছার জানান, “খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে এখন স্বাভাবিক যান চলাচল করছে।”
তিনি আরও জানান, আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।



