এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত এক মাসে জেলায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার টেকনাফের দুর্গম পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
টেকনাফে পাহাড় থেকে ৩ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের রবি আলম, মুজিব উল্লাহ ও নুরুল বশর প্রকাশ হালানি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতরা চিহ্নিত ডাকাত ও মানব পাচার কারী চক্রের সদস্য হতে পারেন। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, মরদেহ গুলোর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচার সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।
বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পাহাড়ে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয়। তাদের ভয়ে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এক মাসে যত রক্তপাত:- গত ২৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় একাধিক আলোচিত খুনের ঘটনা ঘটেছে ।
ছাত্রদল নেতা ও জুলাইযোদ্ধা খোরশেদ হত্যা: ২৫ মার্চ সৈকতের কবিতা চত্বর এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন খোরশেদ আলম (২৬)। তিনি জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ছাত্রদল নেতা ছিলেন।
রিপা হত্যাকাণ্ড (খণ্ডিত মরদেহ): ১১ এপ্রিল সদর উপজেলার জানার ঘোনা এলাকার ডোবা থেকে শাহিদা আক্তার রিপা (২৯) নামে এক নারীর মাথা ও হাত বিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ২৬ মার্চ ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক স্ত্রীর শরীর থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল।
অটো চালক আজিম হত্যা: গত ২ এপ্রিল ঝিলংজা ইউনিয়নে মায়ের পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হন অটোচালক আজিম। ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জমি নিয়ে মুবিন হত্যা: ১৩ এপ্রিল পিএমখালী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মোবিনুল হক (৩৮) নামের এক যুবককে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে গহিন পাহাড়—কোথাও মিলছে না নিরাপত্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কাঠুরিয়া জানান, পাহাড়ে প্রতিনিয়ত লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে চিৎকার শোনা গেলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসে না।
কক্সবাজারের সচেতন মহলের দাবি, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনিরা ধরা না পড়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার না করলে এই পর্যটন জনপদ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


