এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে স্থানীয় জনগণের জীবন যাত্রা, পরিবেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (CCNF)।
আজ সোমবার কোষ্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এর সঞ্চালনায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত সহ ১৮ দফা দাবি উত্থাপন করে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন, ইলিয়াছ মিয়া সহ অনেকে । বক্তারা বলেন, কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় সরকার ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ জরুরি। পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির ক্ষেত্র হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে । কক্সবাজার জেলা বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেশের দ্বিতীয় ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হওয়া স্বত্তেও এই জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে । এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে স্থানীয় টিউবওয়েল গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং লবণাক্ততা দেখা দিচ্ছে । এর বিকল্প হিসেবে নাফ নদীর পানি শোধন করে ব্যবহারের দাবি জানায় সিসিএনএফ । মানবিক সহায়তায় স্বচ্ছতার অভাব ও স্থানীয়দের উপেক্ষা বিষয়ে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গা অর্থায়নে স্থানীয় এনজিওদের চরম ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি UNOCHA-এর প্রাপ্ত ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ৯২ শতাংশ অর্থই গেছে জাতিসংঘ সংস্থা গুলোর কাছে, যেখানে স্থানীয় এনজিওদের সরাসরি কোনো অর্থায়ন করা হয়নি । এ ছাড়া ব্র্যাক পরিচালিত ‘পুলড ফান্ডের’ প্রায় ৭৮ শতাংশই জাতীয় এনজিওদের দখলে, যা স্থানীয় করণের অঙ্গীকারের পরিপন্থী । জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিও গুলোর (INGO) সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন বন্ধ করে স্থানীয় এনজিওদের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় । নিরাপত্তা ও স্থায়ী অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি কক্সবাজার সীমান্তে দুর্বল নিরাপত্তার কারণে অব্যাহত প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় । বক্তারা বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাফ নদীতে শক্তিশালী নৌ টহল নিশ্চিত করার দাবি জানান । এছাড়া ক্যাম্পে প্লাস্টিক ত্রিপল বা অস্থায়ী উপকরণের বদলে দুইতলা বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে বলা হয়, এটি রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বসবাসের প্রবণতা তৈরি করবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে ।
সিসিএনএফ-এর প্রধান দাবিগুলো হলো:
জবাব দিহিতা নিশ্চিত করা:- জাতিসংঘ সংস্থা গুলোকে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনা ।
প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন:- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গতি আনতে একটি জবাবদিহিমূলক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন করা ।
কর্মসংস্থান:- মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় পেশাজীবীদের ছাঁটাই বন্ধ করে তাদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে হবে ।
তহবিলের স্বচ্ছতা:- হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ অর্থের ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে ।
সমন্বয় কাঠামো:- রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন টিমে (RCT) স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয় এনজিও এবং জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে ।


