রাব্বি রহমান , নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীতে মায়ের মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ভ্যান চালক ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) গাঁ ঢাকা দিয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ছেলে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূ ও নাতিকে থানায় আনা হয়েছে। নিহত মারুফা বেগম (৬০) কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, তারা গত সোমবার (১ জুন) মারুফা বেগমকে দেখতে পেয়েছিলেন এরপর তাকে আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সোমবার কোন এক সময় তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।
নিহতের ছেলে লাভিন মিয়া জানায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই মারা গেছে। অপর ভাই জুয়েল মিয়া বাড়িতে থাকে আর আমি ঢাকায় থাকি। শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। একই দিন ভাইয়ের উপর রাগ করে ভাবি তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন রোববার (৩১ মে) আমার ঘরে মাকে থাকার কথা বলে আমি শ্বশুরবাড়ি জলঢাকার দুন্দিবাড়ি যাই। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকি। অনেকের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে হতাশায় ভুগতে থাকি। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমার স্ত্রী বাড়িতে এসে আমার ঘরের বিছানার তোষক ঠিক করতে যেয়ে রক্ত দেখতে পায়। চিৎকার করলে আমি ঘরে গিয়ে রক্ত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আমার ভাই জুয়েলের থাকার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখতে পাই। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের খবর দিলে তারাও ঘরের মেঝের মাটির ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয়। ময়না তদন্তের জন্য লাশ থানায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মরদেহ জেলা মর্গে পাঠানো হবে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল পলাতক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও জুয়েলের ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে ছেলে জুয়েলেই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝের মাটিতে পুঁতে রাখে। নিহতের ছোট ছেলে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের জন্য এসেছেন। হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


