এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
“Don’t Gas, The South” শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী গ্যাসের বিস্তার বন্ধের দাবিতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং কুতুবদিয়া দ্বীপ সুরক্ষা আন্দোলন (কেডিএসএ)-এর যৌথ উদ্যোগে এক প্রতিবাদী নৌবহর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ১৯ ই নভেম্বর ২০২৫ ইং সকাল ১০ টায় উপজেলার পূর্ব পাশের কুতুবদিয়া সাগর চ্যানেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ‘ধরা’র কুতুবদিয়া উপজেলা আহ্বায়ক এম. শহিদুল ইসলাম। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তরুণদের অংশগ্রহণে এবং প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড-সম্বলিত নৌযান নিয়ে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, আগামী কয়েক বছরে শিল্পোন্নত দেশগুলোর বাইরে জ্বালানির চাহিদা ৮৫% বৃদ্ধি পাবে। গ্লোবাল সাউথের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও জনসংখ্যা বাড়ার ফলে জ্বালানির চাহিদা বাড়লেও এই বাড়তি চাহিদা পূরণে গ্যাসকে প্রধান বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হচ্ছে। IEA-এর গ্যাস বাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় মোট ৭৬৮টি গ্যাস প্ল্যান্ট প্রাক-নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ১৫৩টি প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং ২৮৪টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নাধীন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, কানাডা এবং কাতার বিশ্বের শীর্ষ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৮৮.৪২ মিলিয়ন টন এলএনজি রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।
বক্তারা বলেন, গ্যাস সঞ্চয় ও উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা বিশ্বের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন গ্যাস সক্ষমতা ২০৪০ সাল পর্যন্ত IEA-এর চাহিদা পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথের জনগণ ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান— সরকারগুলোকে দ্রুত, ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (UNFCCC COP30) এবং আসন্ন G20 শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে তারা ফসিল গ্যাসের সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসিল জ্বালানি ব্যবহার কমানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং COP30 ও G20 ঘোষণায় নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তাঁরা নিরাপদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং জলবায়ু ক্ষতিপূরণের ন্যায়সঙ্গত অর্থায়নের দাবি জানান।



