এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে এনজিও পরিচালিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে) হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজন ও রোহিঙ্গারা। মঙ্গলবার ১৬ জুন রাতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
নিহত রোগীর নাম ইদ্রিস আলী (৫৩), তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাজির আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় রোহিঙ্গা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি পিকনিকে অংশ নিয়ে খাবার খাওয়ার পর ইদ্রিস আলী অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর ডাটা কার্ড না থাকার অজুহাতে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিলম্ব করা হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হলে স্বজন ও রোহিঙ্গারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাৎক্ষণিক ভাবে রোহিঙ্গারা হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উখিয়া থানা পুলিশ, বালুখালী আর্মি ক্যাম্প ও ৮ এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও ডাটা কার্ডের জটিলতায় সময় নষ্ট করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৮ এপিবিএন’র অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর কিছু উত্তেজিত রোহিঙ্গা হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। খবর পাওয়া মাত্রই এপিবিএন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ ভাবে দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্যাম্প এলাকায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


