মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা জেলা//
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী আয়োজন— সম্ভাবনার উৎসব।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও ইউএনএফপিএ’র যৌথ উদ্যোগে, একশনএইড বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় এবং এসকেএস ফাউন্ডেশনের অ্যাক্সেলারেটিং অ্যাকশন টু এন্ড চাইন্ড ম্যারেজ ইন বাংলাদেশ (ফেইজ-টু) প্রকল্প এর আওতায় উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবে স্থানীয় তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সুধীজনের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মাঠ। দিনভর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, আইন-বিচার, ব্যবসা-বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, ব্যাংক-বীমা, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া সহ বিভিন্ন খাতের নারী পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে ছিল একাধিক তথ্যবহুল স্টল। শিক্ষার্থীরা এসব স্টল ঘুরে বাস্তব তথ্য ও পেশাগত জীবনের অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা জানতে পারে।
শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বাল্যবিবাহ নয়, বরং উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। ড্রিম ওয়ালে তারা ভবিষ্যৎ পেশাগত স্বপ্ন লিখে রাখেন। কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জেন্ডার সমতা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR) এবং নারীর প্রতি সহিংসতা (GBV) সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।
ছালুয়া ফজলে রাব্বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কলি আক্তার বলেন,
এ ধরনের উৎসবে আসার সুযোগ আমাদের কমই হয়। এখানে এসে বুঝতে পেরেছি বাল্যবিবাহ কিভাবে একটি মেয়ে ও তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পথনির্দেশনা পেয়েছি, যা আমার ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।”
( অভিভাবকের প্রতিশ্রুতি)
একজন অভিভাবক সেলিম মিয়া, যিনি তার মেয়েকে নিয়ে উৎসবে আসেন, বলেন—
আমার মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। অনেকেই বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে। এখানে এসে মেয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেলাম। তাকে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
উৎসবে বক্তব্য রাখেন— নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইয়ান সুইলেস, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ চিফ ইলিজা আজরেই, একশনএইড বাংলাদেশের এ.জেড.এম. মৌসুম ইসলাম, এসকেএস ফাউন্ডেশনের খন্দকার জাহিদ সারোয়ার সোহেলসহ স্থানীয় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা সবাই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উচ্চশিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপজেলা কর্মকর্তার মতামত / ফুলছড়ি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন—
বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা উপজেলার মধ্যে ফুলছড়ি অন্যতম। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সচেতন করবে, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।”


