মোঃ রানা ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি//
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দরে এক ব্যবসায়ী জীবদ্দশায় নিজের জন্য কবর খনন করেছেন।ফারুক সাহেব তার খামারবাড়ির এক পাশে বিশেষভাবে এ মাটির ঘর নির্মাণ করেন। ইট-পাথরের পরিবর্তে সাধারণ মাটির দেওয়াল, উপরে টিনের ছাউনি, দুই দিকেই দরজা ও জানালা— দেখতে সাধারণ হলেও ভেতরে রাখা কবর এটিকে দিয়েছে অন্যরকম তাৎপর্য।
কবরের ওপর রাখা হয়েছে একটি স্টিলের খাটিয়া , যেখানে তিনি মাঝে মাঝে বিশ্রামও নিতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের মতে, মৃত্যুর কথা স্মরণ করে নিজের ভেতরে বিনয় ও ভয় জাগ্রত রাখতেই এমন অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসায়ী।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ওনি হয়তো মাজার বা ধর্মীয় কোনো স্থাপনা তৈরি করছেন। পরে বুঝলাম, জীবিত থাকতেই নিজের কবর বানিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও গভীর চিন্তার খোরাক জোগায়।’
আরেকজন তরুণ বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে মানুষ সাধারণত ভীত থাকে। কিন্তু তিনি মৃত্যুকে খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। এ দৃশ্য দেখে আমরাও বুঝতে পারি জীবন ক্ষণস্থায়ী।’
ইসলামি শিক্ষার আলোকে মৃত্যুর আগে মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি অপরিচিত নয়। অনেক আলেম বলেন, মৃত্যু নিয়ে চিন্তাভাবনা মানুষের জীবনকে সৎপথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। তবে জীবিত অবস্থায় কবর খুঁড়ে রাখা একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘মৃত্যু স্মরণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যদিও এভাবে কবর খুঁড়ে রাখা প্রচলিত নয়, তবে এর মাধ্যমে তিনি যে মৃত্যুর কথা সর্বদা স্মরণে রেখেছেন, তা প্রশংসনীয়।’
এখন এলাকার অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে কৌতূহল নিয়ে দেখছেন এই মাটির ঘর। কেউ কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে ভাবছেন নিজের মৃত্যুর কথা।
কচুবাড়ি-কৃষ্টপুর গ্রামের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তাই এখন কেবল একটি ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং মৃত্যুচিন্তা ও জীবনদর্শন নিয়ে মানুষের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


