বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; মাগুরা থেকে/
মাগুরা জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত পাটকেলবাড়িয়া উত্তর পাড়ার ঐতিহাসিক শাহি মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ১২ই রবিউল আওয়াল উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়গ্রাহী ও ঈমানদীপ্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিল ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ছিল নবীপ্রেম, কৃতজ্ঞতা ও দ্বীনি দায়িত্ববোধের এক বাস্তব প্রকাশ।
গতকাল এশার নামাজের পর শুরু হওয়া মাহফিলে সমবেত হন পাটকেলবাড়িয়ার শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মহল্লাবাসী, যুবক, প্রবীণ এবং শিশু সহ বিভিন্ন বয়সী লোকজন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা অতিথিরাও। মাহফিলে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবনী, তাঁর রাহমাতুল্লিল আলামিন রূপে আগমন, সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ এবং বর্তমান সমাজে নবীর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দোয়া পরিচালনা করেন অত্র মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মোল্লা মোঃ ওয়াজেদ আলী, যিনি কুরআন ও হাদীসের আলোকে সমকালীন মুসলিম সমাজের নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির উপায় তুলে ধরেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন—এই এলাকার শান্তি, দেশের মঙ্গল এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য। বিশেষভাবে দোয়া করা হয় কবরবাসী মুসলিমদের মাগফিরাতের জন্য, নবীজির উম্মতের সকলের হেদায়াতের জন্য এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের সঠিক দীনী পথে চলার তাওফিকের জন্য।
মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বিশ্বাস “গোমতীর বার্তা” কে জানান, “প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা এই পবিত্র দিনটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেছি। এ আয়োজন যেন আমাদের শিশুদের মধ্যে নবীজির প্রেম, ইসলামি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সমাজে একতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা জাগ্রত করে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কেয়ামত পর্যন্ত এই মাহফিল যেন চলমান থাকে, এবং প্রতিটি ঘর যেন নামাজি হয়ে ওঠে।”
অনুষ্ঠানে আলোচনার একপর্যায়ে জানানো হয়, অত্র মসজিদে শিশু ও বয়স্কদের জন্য কোরআন শিক্ষার বিশেষ কোর্স ও মক্তব চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় শিক্ষা আরও বিস্তৃত হয়। সেইসাথে মহল্লাভিত্তিক দাওয়াতি কাজ জোরদার করে সমাজে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন ইমাম সাহেব।
পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ, আবেগঘন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশে। মুসল্লিদের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতা, মুখে ছিল দোয়া, আর অন্তরে ছিল নবীপ্রেমের আলো। শাহি মসজিদের মিম্বার থেকে ভেসে আসা দোয়ার ধ্বনি যেন পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেয় আধ্যাত্মিক প্রশান্তি। শেষ মোনাজাতে সকলে আল্লাহর দরবারে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে প্রার্থনা করেন, যেন এই আয়োজন কবুল হয় এবং আমাদের জীবনকে নবীজির আদর্শে গড়ে তোলার তাওফিক দান করেন।


