মোঃ মাকসুদুর রহমান শাকিল , জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হামিদুর রহমান ফর্সা । সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের মোট ১০ জন ইউপি সদস্যের সবাই—যাদের মধ্যে ৩ জন নারী সদস্যও রয়েছেন—একযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনটির অনুলিপি জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। হাট-বাজার, আড্ডাখানা কিংবা চায়ের দোকান—সবখানেই মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন, “কেন হঠাৎ চেয়ারম্যান ফর্সাকে সরানোর চেষ্টা চলছে?”
সাজিমারা গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব নাজির উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহ বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ, আমাদের কষ্ট চেয়ারম্যান ফর্সা বোঝে। সে রাস্তা মেরামত করে ধান আনা-নেওয়ার সুবিধা করছে। তাকে সরানোর খবর শুনে আমরা অবাক হয়েছি।
কলেজছাত্র/ছাত্রী জনি ও শশী বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন করেন। তরুণদের পাশে থাকেন। এমন একজন মানুষকে যদি রাজনৈতিক কারণে সরানো হয়, তবে তরুণ সমাজ হতাশ হবে।”
নিলক্ষিয়া বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ জানান, “হাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য চেয়ারম্যান ফর্সা ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। তাকে সরালে সমস্যা হবে।”
এ বিষয়ে নিলক্ষিয়া আর জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছামিউল হক তোতা বলেন,
“আমি শিক্ষাজীবনে অনেক চেয়ারম্যানকে দেখেছি। কিন্তু ফর্সা চেয়ারম্যান সৎ ও নিরলসভাবে কাজ করছে। গ্রামে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার অবদান স্পষ্ট। তাকে সরানোর চেষ্টা স্থানীয় উন্নয়ন ব্যাহত করবে।”
তবে ইউপি সদস্যদের একাংশ অভিযোগ করছেন, চেয়ারম্যান ফর্সা একক সিদ্ধান্ত নেন এবং সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না। এজন্য তারা তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম বলেন – মে মাসে জন্মমৃত্যুর নিবন্ধন আমরা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলাম চেয়ারম্যান সাহেব যথা সময়ে পরিষদে আসেন এবং সেবা দেন ।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান ফর্সা বলেন,
“আমি সবসময় ইউনিয়নবাসীর সেবায় নিয়োজিত থেকেছি। জনস্বার্থে নেওয়া আমার প্রতিটি পদক্ষেপের প্রমাণ ইউনিয়নের মানুষ জানেন। ইউপি সদস্যদের আবেদনের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করছে। আমি চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে জনগণের স্বার্থে আমাকে দায়িত্বে বহাল রাখুক।”
বর্তমানে ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে


