মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক রাজশাহী,
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামে গরু চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে মধ্যযুগীও কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় শিমুল (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শমজান (৪০) নামে অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে জোতকাদিরপুর স্কুল থেকে দক্ষিণ পশ্চিম কর্নারে জিয়ারুলের ঘরের বারান্দার সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। এতে জোতকাদিরপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে শিমুল নিহত হন। আহত হন একই গ্রামের নবীন শাহের ছেলে শমজান।
এ ঘটনায় বাঘা থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। একটি চুরি অন্যটি হত্যা মামলা। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়ারুলকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসলেও তার কাছ থেকে চুরির মামলা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ৪ দিন পার হলেও এখন পযর্ন্ত কোন আসামী আটক করতে পারেনি বাঘা থানা পুলিশ।
রাতে একটি বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে এমন অভিযোগে শিমুলকে মারধোরের পরে তার শিকারোক্তিতে শমজানকে আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। মারধর করার পরে ব্যাটারীচালিত অটোভ্যান যোগে পরে তাদের বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালটির জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শিমুল কে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ নিহত শিমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠান। ময়নাতদন্ত শেষে শিমুলের মৃতদেহ দাফন করা হয়।
অপরদিকে রামেক হাসপাতালে গুরুতর আহত শমজান কে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে চুরি মায়লায় তাকে আটক দেখিয়ে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে শিমুলকে বেঁধে মারধর করতে দেখা যায়। ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিওটির দৃশ্য নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কেন তাকে এভাবে বেঁধে মারধর করা হলো, কারা তাকে আটক করেছিল, কার নির্দেশে বা কী অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল এবং মারধরের সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন?
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। যে বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে শিমুলকে মারধর করা হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও টি ভইরাল হয়েছে তা থেকে দেখা যায় পাশের একটি বাড়ির বারান্দার সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ওই বাড়িতেই চুরি করতে গিয়ে শিমুল ও শমজানকে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তাদের অন্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কেন মারধর করা হলো?
এখন প্রশ্ন হলো কেন ঘটনাস্থল পরিবর্তন করা হলো? সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন? কে বা কারা তাদের অন্য বাড়িতে নিয়ে গেলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে। তবে শিমুলকে মারধরের মুহুর্তে এলাকার জন প্রতিনিধি মেম্বর লিটন বিভিন্ন মাধ্যমে খবর শুনে উপস্থিত হন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
লিটন বলেন, আমি লোক মারফত শুনে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি শিমুলকে বেঁধে মারধর করছেন। আমি তাদের নিষেধ করি এবং জোতকাদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। পরে শমজান কে দেখতে পেয়ে উপস্থিত লোকজন তাকেও মারধর করে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাস্থলে তারা চুরি করার কোনো সরঞ্জাম দেখতে পাননি। শিমুলের কাছ থেকেও চুরি করার কাজে ব্যবহৃত কোনো সরঞ্জাম বা চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের বিষয়টি তারা জানেন না। এ কারণে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে শিমুল কি সত্যিই গরু চুরি করতে গিয়েছিলেন, নাকি কোনো পূর্ববিরোধের জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে?
তবে এ বিষয়ে চুরির অভিযোগকারী ইয়ারুলের বাড়িতে কেউ না থাকায় তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিমুলের বাবা অভিযোগ করে বলেন, তিনি অভিযোগের কপিতে ৮ জনের নাম উল্লেখ করলেও এজাহারে সকল অভিযুক্তের নাম অজ্ঞাত নামা দেখানো হয়েছে। তিনি তার সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক জানান, এই ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। এমন ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। এই বিষয় দু’পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে হত্যা মামলায় কোন নাম উল্লেখ করা হয় নি। কেউ আসামির নামের কথা বলেনি। এ বিষয়য়ে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি আটকের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় আর কেউ যেনো আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়


