মোঃ রাকিব হাসান, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়ায় টানা বৃষ্টিতে যেন প্রকৃতি বদলে গেছে একেবারে। দিনভর মেঘলা আকাশ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই জনপদে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে রেকর্ড হয়েছে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থামার নামই নিচ্ছে না। বৃষ্টির সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়া মিলে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়েই এনে দিয়েছে হাড়কাঁপানো শীতের অনুভূতি।
শুক্রবার দুপুরে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয় — বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অফিসটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, এরপরেই নামবে প্রকৃত শীত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে জানা গেছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ ২৮ অক্টোবর মধ্যরাতে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া হচ্ছে দেশের উত্তরতম প্রান্ত—যেখানে শীত আসে সবার আগে। ফলে মন্থার প্রভাবে এই অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি, সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস।
টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও দিনমজুর মানুষ। রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে চারদিক কাদা আর জলাবদ্ধতায় ভরে গেছে।
অনেকেই জানিয়েছেন, কার্তিকের এমন বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, দিনে আয়ের পথও বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কৃষকরাও পড়েছেন সমস্যায়—ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
সীমান্তের এই এলাকার মানুষ বলছেন, এমন বৃষ্টি অনেক দিন পর দেখছি, তবে বৃষ্টির সঙ্গে ঠান্ডাও যেন বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়।
অন্যদিকে, স্থানীয়রা মনে করছেন এই বৃষ্টি প্রকৃতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বর্ষার পরের এই বৃষ্টিই তাদের কাছে শীতের আগমনী দূত।
তেঁতুলিয়ার সর্বত্রই এখন ভেজা মাটি, ঝরেপড়া পাতা আর কুয়াশা ঢাকা সকাল—প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে উঠেছে।কেউ কেউ বলছেন, বৃষ্টির পর এমন মেঘলা আকাশে তেঁতুলিয়ার সৌন্দর্য যেন বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ জানান, গত ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড হয়েছে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা ৯৯ শতাংশ। বৃষ্টিপাতের সাথে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিনদিন উত্তরাঞ্চলের ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এই বৃষ্টির পর আবহাওয়ায় হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাবে, যা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকট রূপে দেখা দিতে পারে।
বৃষ্টির এই দিনে সীমান্তের জনপদ যেন এক ভিন্ন আবহে মোড়ানো প্রকৃতির প্রশান্তি, মানুষের দুর্ভোগ আর শীতের আগমনী সুর—সব মিলিয়ে তেঁতুলিয়া এখন যেন এক বৃষ্টিমাখা শীতের গল্প।


