মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতি এবং প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর আনোয়ার হোসেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারি এমপিও নীতিমালা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত (বিশেষ করে ৩য় বিভাগ/শ্রেণির সীমাবদ্ধতা) তোয়াক্কা না করেই তাকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিধিসম্মত পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যা ২০১৮ সালের কার্যকর এমপিও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নিয়োগ অনিয়মের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে শিক্ষাদান ও দাপ্তরিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তিনি নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিপাঠদানে ব্যর্থ এবং শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রদান করতে পারেন না। এছাড়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক কার্যালয়ে বসে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ডিলারশিপ ও প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসাসহ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন, যা সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেশাগত আচরণবিধির চরম পরিপন্থী।
এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষকের এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রি ও বিএড পরীক্ষার মূল সনদপত্র, নম্বরপত্র, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিসহ বিদ্যালয়ের মূল রেজুলেশন বই ও ইএমআইএস (EMIS) নথি হেফাজতে নেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী সাবেক সভাপতির পুত্র মোঃ আতিকুর রহমান, সাবেক সভাপতির পুত্র মোঃ শাহীন মৃধা এবং সাবেক সভাপতি ও জমিদাতা মৃত তাজেম আলী হাওলাদারের পুত্র মোঃ ফিরোজ আলম যৌথভাবে এই আবেদন জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার দ্রুত তদন্তপূর্বক যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় একটা চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিগত দিনেও একই অভিযোগ এনেছিল। সেটা তদন্ত হয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। চক্রটি এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ শাহজালাল
বরগুনা।।


