আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
বসতবাড়ির জমিজমাকে কেন্দ্র করে যশোরের মণিরামপুরে মৃত শেখ আয়ন উদ্দিনের ছেলে মোঃ হযরত আলী (৫০) নামের এক ব্যাক্তিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্য হামলার অভিযোগ উঠেছে মোঃ জহিদুল ইসলাম জয়েদ সহ তারই ৪/৫ জন আপন ভাই ও বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এ বেপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আহত হযরত আলী। যে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রমতে, উপজেলার ১নং রহিতা ইউনিয়নের রহিতা শেখপাড়ার মৃত শেখ আয়ন উদ্দিনের বসতবাড়ির জমজমা বিরোধে হযরত আলী (৫০) বাদী হয়ে আদালতে ১টি মামলা দায়ের করে। ভুক্তভোগীর বয়ান মোতাবেক, ঐ মামলার জের ধরে প্রায়ই বাড়িতে ঝামেলা করে তারই ভাইয়েরা ও বোন জামাই তাকে মারধর করতো,ও মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকিও দিয়ে আসছিলো।
ঘঠনার দিন বুধবার (২০শে মে) বেলা ১টার দিকে মাঠের বন্ধকী জমির গচ্ছিত রাখা নগদ ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রাপকের দেওয়ার উদ্দেশ্য হযরত আলী তার দ্বিতল বাড়ি হতে নিচে নামার সময় সিড়ির উপরেই পরিকল্পিত ভাবে তার ভাই জহিদুল ইসলাম (জয়েদ),জয়েদের স্ত্রী মোছাঃ শারমিন,মোঃ সাজ্জাদ হোসেন,মোঃ অহেদ আলী,মোঃ সায়েদ আলী ও তাদের বোন জামাই জালালপুর গ্রামের জৈনক মোঃ নূর নবী আতর্কিত হামলা করে। হামলা কারীর একজন হযরতকে হত্যার উদ্দেশ্য তার মাথায় ধারালো কুড়াল দিয়ে আঘাত করলে তিনি পড়ে যান,পরবর্তীতে বাঁশ,লোহার রড,থ্রেড পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলে প্রতিবেশী কয়েকজন এগিয়ে আসে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান,মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে হযরত আলী তার অর্জিত অর্থ ব্যায়ে দ্বিতল বাড়ি ও অর্থ সম্পদের মালিক হওয়ায় অন্যান্য ভাইয়েরা তার সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য তারা এই পরিকল্পনা করেছে বলে দাবী করেন আহত মোঃ হযরত আলী।তিনি আরো অভিযোগ করেন, বাবা মারা যাওয়ার পর যার যে সম্পত্তি পেলেও আমাকে তারা বন্চিত করতে ও আমার সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য ওরা আমাকে প্রানে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। এমনকি যদি তারা আমাকে হত্যা করতে ব্যার্থ হয় তাহলে জহিদের (ভাই) স্ত্রী শারমিনের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে আমাকে ফাসানোর পরিকল্পনা করেছে।আমি বাঁচতে চাই ভাই,আমি কারো সম্পদ না আমার যা আছে তাই নিয়ে পরিবারের সাথে থাকতে চাই। আপনারা আমাকে বাঁচান না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে! এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত জহিদুল ইসলামকে কল করলে,থানা পুলিশ ও যশোরের বড় বড় সাংবাদিক তার হাতে আছে বলে মামলা চালাবেন বলে জানিয়ে দেন।
ভাই হয়ে আপন ভাইয়ের উপর এমন হামলা নজীরবিহীন ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো এ ঘঠনার সঠিক তদন্তের পর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু সাঈদ।


