অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৃতীয় পর্বের প্রথম পর্ব
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শিরালী মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে স্কুলের নৈশপ্রহরীর রাতে দায়িত্ব পালন না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটেই শিরালী মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা চলে যেতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে বিদ্যালয়ের দপ্তরি রুবেল হাসানকে স্কুল তালাবদ্ধ করে বের হতে দেখা যায়।
নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তরি রুবেল হাসান জানান, আজ একটু আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম ছুটিতে আছেন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক লিটন।
তবে ছুটির এই বক্তব্য নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। মুঠোফোনে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিটন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ক্লাস শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা ছুটি দিয়ে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বের হয়ে গেছি।” প্রধান শিক্ষিকার ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দপ্তরির বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা ছুটিতে নন, অফিসের কথা বলে বাইরে গেছেন।”
এদিকে প্রকৃত ঘটনা জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়টির পিয়ন কাম নৈশপ্রহরীর রাতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করার নিয়ম থাকলেও তিনি রাতে স্কুলে থাকেন না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে নৈশপ্রহরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে বলেন, “আমার বাসা তো পাশেই তাই আমি সবসময়ই থাকি” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী তিনি শিরালী মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে স্কুলে রাতে থাকতে দেখা যায়নি।
এই নিয়মভঙ্গের বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু মোতালেব আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। শিক্ষা অফিসার বলেন, স্কুল সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়া নৈশপ্রহরীর রাতে না থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রতিটি বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীকে রাতে স্কুলেই অবস্থান করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে। কেউ যদি দায়িত্ব অবহেলা করে না থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ এ্যাকশনে (ব্যবস্থা) যাওয়া হবে।”
স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

