নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত মেট্রোপলিটন কলেজ খুলনা এ অনার্স কোর্সের অধিভুক্তির নামে অর্থ গ্রহণ করে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কলেজের অনার্স পর্যায়ের প্রভাষক মোঃ জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেট্রোপলিটন কলেজ, সবুজবাগ, সোনাডাঙ্গা, খুলনার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালী জানান, কলেজে অনার্স কোর্স চালুর লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির জন্য ব্যয় বাবদ অর্থের প্রয়োজন হবে বলে কলেজের অনার্স পর্যায়ের প্রভাষক মোঃ জাহিদ হোসেন কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করেন।
পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে অনার্স অধিভুক্তির খরচ বাবদ প্রভাষক মোঃ জাহিদ হোসেনকে মোট ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত অর্থ প্রদান করা হয় ইংরেজি ২১/০৩/২০২২ তারিখে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা এবং ১৪/০৪/২০২২ তারিখে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা। উক্ত অর্থ অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত অর্থ থেকে প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
শিক্ষক প্রতিনিধি চৌধুরী মহসিন উদ্দিন আহমেদ
সহকারী অধ্যাপক এস এম রওনাকুজ্জামান
প্রভাষক মোঃ মাহবুবুর রহমান মোড়ল
প্রভাষক মোঃ সুলতান আহমেদ
প্রভাষক মোঃ কবির হোসেন
প্রভাষক এস এম শফিকুল ইসলাম
প্রভাষক মিহির কান্তি মোন্ডল
সহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মোঃ জাহিদ হোসেন অনার্স অধিভুক্তির কাজ সম্পন্ন করেননি এবং অর্থের সঠিক হিসাবও প্রদান করেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন এবং অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক লিখিত স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন এবং অর্থ গ্রহণের দলিল ও ছবি কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালী আরও অভিযোগ করেন, অর্থ ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাষক মোঃ জাহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।


