নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ১৫৮৫ টাকার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ২৫০০ টাকায়: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ যশোর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামান কে, বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে জানানোর পরেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো এলাকায় মনিটরিং করতে দেখা যায়নি।
প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে সরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা।
জানতে চাইলেই তারা বলেন ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, বলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের পক্ষে, সম্প্রীতি আরো খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি।
দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তদারকিতে শূন্যের কোঠায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
যশোরের বিভিন্ন বাজারে দেখা দিয়েছে কৃত্রিম সংকট ও অবাধ অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত ১৫৮৫ টাকার ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত।
কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বাজার মনিটরিংয়ের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
বাজারে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন, বলে অভিযোগ করেন সুশীল সমাজ।
যেখানে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশে কোনো গ্যাস সংকট নেই, সেখানে হুট করে এক সপ্তাহের মধ্যে কীভাবে প্রায় হাজার টাকা দাম বেড়ে গেল—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। গত সপ্তাহে যশোরে গ্যাসের অনিয়ম ও চড়া দাম হাঁকানোর বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলেও ভোক্তা থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় নাই।
স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি ভোক্তাকে সাংবাদিকরা জানানোর পরে ভোক্তার পরিচালকের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করার আশ্বাস দিলেও অদ্যাবধি তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি কিংবা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় হতাশ সাধারণ মানুষ। অনতিবিলম্বে যশোর সদরসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা।
সদর উপজেলা সহ জেলায় হটাৎ করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়ে জানার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামান কে, বিষয়টি জানালে তিনি বলেন আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে রাজারহাট বাজার ও মোড় এলাকায় মনিটরিং করা হবে, তবে গত এক সপ্তাহ পার হলেও এই বিষয়ে কোনো ধরনের বাজার মনিটরিং বা অভিযান কোনটাই করতে দেখা যায়নি।


