মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে শিশুশ্রম নিরসনে বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর ন্যাশনাল অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন। শুরুতে তিনি স্বাগত বক্তব্য ও কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ। প্রধান অতিথি হিসেবে শিশুশ্রম নিরসনে করণীয় বিষয়ে সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদান করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া।
কর্মশালায় শিশুশ্রম মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি
মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি।
রাজশাহী অঞ্চলে শিশুশ্রমের বাস্তব চিত্র ও নির্মূলের উপায় তুলে ধরেন ড. এম. ফখরুল ইসলাম, অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
শিশুশ্রম নিরসনে অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন মোসা. জুলিয়া জেসমিন, যুগ্ম মহাপরিদর্শক, ডিআইএফই।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন বলেন, শিশুশ্রম শুধু শ্রম আইন লঙ্ঘন নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। এ সমস্যা সমাধানে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা শিক্ষায় ফিরলে সমাজ ও রাষ্ট্র দুটোই উপকৃত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া বলেন, শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল এবং অন্যান্য খাতে শিশুশ্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করতে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিশুশ্রম মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায়
রাজশাহী রেঞ্জর ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পুলিশ বলেন, শিশুশ্রমের সঙ্গে অনেক সময় মানবপাচার, মাদক ও অপরাধ জড়িত থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং শিশুদের উদ্ধার করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী অঞ্চলের বাস্তবতায় শিশুশ্রম পরিস্থিতি তুলে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও শিক্ষার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন।
জাতীয় প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম পরিস্থিতি ও এ বিষয়ে আইএলও’র সহায়তা তুলে ধরেন হালিমা আক্তার, জাতীয় পরামর্শক, আইএলও বাংলাদেশ।
এছাড়া শিশুশ্রম নিরসন ও কর্মসংস্থানে ইউসেপ বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুল ইসলাম।
প্লেনারি আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুল ওয়াদুদ, ডিআইএফই মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন।
কর্মশালায় শিশুশ্রম নিরসনে ভবিষ্যৎ করণীয় ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা শেষে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, কর্মশালাটি টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এবং ডেনমার্ক ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।


