রতন রায় :কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় ও দেশের মানবিক ব্যক্তিরা। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা দুর্গাময়ী দেবী স্বামীর রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের পরিবর্তে পেয়েছেন একটি নিরাপদ আবাস। এতদিন নড়বড়ে ঘরে বসবাস করা এই মা আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
দুর্গাময়ী দেবী বলেন, “আমার সেই পুরোনো ঘরে ভালো চাল ছিল না, খুঁটিগুলোও ভাঙ্গা। বৃষ্টি-বাদলে ভয়ে ঘুম হতো না। ভাবতাম, কখন এই একমাত্র ঠাইটুকুও ভেঙে পড়ে! আজ দয়ালু মানুষদের সহায়তায় আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ডলার আবেদীন ভাই ও অন্য সহায়তাকারীদের আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে ভালো রাখার জন্য দোয়া করি”।
তিন সন্তানের জননী দুর্গাময়ী দেবীর সংসারে স্বামী জবিকান্তের মৃত্যুর পর থেকে জীবনসংগ্রাম চলে আসছিল। নিজের ভিটেমাটি রক্ষার আইনি লড়াইয়ের খরচ ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে তিনি এখনও প্রতিবেশীদের বাড়ি ও খামারে কাজ করেন। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসামত নাখেন্দা গ্রামের এই বৃদ্ধার দুঃখ-দুর্দশা প্রতিবেশী সাংবাদিক এনামুল হক সরকারের নজর এড়ায়নি।
“সাংবাদিক এনামুল হক সরকার বলেন, “দুর্গা বৌদি আমার প্রতিবেশী। এই বয়সেও তাঁকে পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হয়। তাঁর ভগ্নপ্রায় ঘর দেখে আমি ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির সাবেক মহাসচিব ডলার আবেদীন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনিও দ্রুত এগিয়ে আসেন।”
মানবিক এই উদ্যোগের সমন্বয়ক ডলার আবেদীন বলেন, “আমি শুধু সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের সমাজে অনেক হৃদয়বান মানুষ আছেন, যাঁরা নেপথ্যে থেকে সহায়তা করেন। দুর্গাময়ী দিদির ঘর তৈরিতে এগিয়ে আসেন ড. বিকাশ দাস, ইঞ্জিনিয়ার রুবেলুজ্জামান বিদ্যুৎ, রেহেনা ইয়াসমিন মলি, আতাউর রহমান সিআইপি, সাকিকুল ইসলাম টিটু এবং আমি। আমরা সবাই শিকড়ের টানে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজে যুক্ত হয়েছি।”
স্থানীয়দের মতে, এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি ঘরই দেয়নি, দিয়েছে একজন বৃদ্ধার জীবনে নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা। এখন দুর্গাময়ী দেবীর আশা, বাকি জীবনটা শান্তিতেই কাটবে তাঁর।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, সম্মিলিত মানবিক প্রচেষ্টা যেকোনো অসহায় মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে দুর্গাময়ী দেবীর মতো অসংখ্য মানুষের মুখে ফুটতে পারে হাসি।


