ঢাকাWednesday , 7 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সুন্দরী নারীর ছবি, ফেক আইডি—আড়ালে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিং চক্র!

    admin
    October 7, 2026 9:03 pm
    Link Copied!

    মোঃ আবদুল মোতালেব, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :–

    সুন্দরী নারীর ছবি, ফেক আইডি—আড়ালে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিং চক্র! এই চক্র শিক্ষক, কর্মকর্তা থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ—টার্গেট হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে সুন্দরী তরুণীর ছবি ব্যবহার করে শিশিরভেজা, Ri Suman, চারুলতা ও মীম আক্তার নামে ও বিভিন্ন নামে-বেনামে খোলা হচ্ছে ভুয়া বা ফেক আইডি। প্রথম দেখালে মনে হতে পারে এটি কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। কিন্তু আড়ালে সক্রিয় থাকতে পারে একটি সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইলিং চক্র।

    প্রথমে পরিচয়, পরে বন্ধুত্বের আবেদন, এরপর মেসেজে কথোপকথন—ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় বিশ্বাসের সম্পর্ক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর শুরু হয় আসল খেলা। এরপর ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা নানা ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ” মীম আক্তার ” নামে ভুয়া ফেক আইডিটি অনুসন্ধান করে দেখা যায় 01349173881 এই নাম্বারটি ব্যবহার করে মিম আক্তার আইডিটি খোলা হয়।
    (৩৩২২৯৪৬৭৮৫ এ জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার) জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুসারে নাম :- মর্জিনা আক্তার, পিতা:- জসীম উদ্দীন, মাতা:- ছালেহা বেগম, জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ :- ১০/০৯/১৯৮৯ইং, গ্রাম কাদিরপুর, থানা/ উপজেলা বেগমগঞ্জ, জেলা নোয়াখালী।

    কিছু দুর্নীতিবাজ নারী ও পুরুষ সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেলিং করা ও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন নামে বেনামে ফেক আইডি খুলে সাধারণ মানুষের মান সম্মানে আঘাত করছে। ব্ল্যাকমেইলিং হওয়া মানুষগুলো সমাজের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ায় আইন এবং প্রশাসনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোন উপায় খুজে পাচ্ছে না। প্রশাসন গোপনীয়তা রক্ষা করে এই সমস্ত ফেক আইডি গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয় যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছেন।
    যে সকল মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে ফেক আইডি গুলো খোলা হয়েছে মোবাইল নাম্বার বন্ধ করে দেওয়ার কারণে দুর্নীতিবাজ ও ব্ল্যাকমেইলিং করা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে শাসন একটু হিমশিম খেতে হয়, বাংলাদেশের সকল অপরাধ কঠোর হাতে দমন করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছেন।

    এই প্রতারণার ফাঁদে শুধু সাধারণ মানুষই নয়—বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সরকারি-
    বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও টার্গেট হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের পূর্ববর্তী সাইবার-অভিযোগ বিশ্লেষণেও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানিকে উল্লেখযোগ্য একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

    কেন সফল হচ্ছে এই প্রতারণা?
    সাইবার অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপরাধীরা মানুষের কৌতূহল, আবেগ ও অসতর্কতাকে কাজে লাগায়। একটি আকর্ষণীয় ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য কথোপকথনের মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় যাচাই না করে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা এবং ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    আর প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি, ভিডিও ও ডিপফেকের ঝুঁকি—যা ব্ল্যাকমেইলিংকে আরও জটিল করে তুলছে।
    আইনও বলছে—ব্ল্যাকমেইলিং অপরাধ
    বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন ও সেক্সটর্শনের উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর ডিজিটাল উপাদান প্রকাশ বা প্রকাশের হুমকিকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শাস্তির বিধানও রয়েছে।

    তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ ফেক আইডি খুলে ভয় দেখালে বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিলে বিষয়টি গোপন করে আতঙ্কিত না হয়ে আইনগত সহায়তা নেওয়া জরুরি। ভুক্তভোগীদের জন্য সতর্কবার্তা
    অপরিচিত কোনো আইডির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা, সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা এবং ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করা যেতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়া যায়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ব্ল্যাকমেইলারের ভয় পেয়ে টাকা দেওয়া বা তার দাবি মেনে নেওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রযুক্তিকে ভয় নয়, সচেতনতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। একটি ফেক আইডির আড়ালে থাকা অপরাধী হয়তো নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।

    সতর্ক থাকুন, অপরিচিত পরিচয়ে বিশ্বাস করবেন না। ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সুরক্ষিত রাখুন।
    সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে নীরব না থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিন।

    কারণ—একটি ক্লিকের অসতর্কতা যেন সারাজীবনের আতঙ্কের কারণ না হয়।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST