নোয়াখালী প্রতিনিধি//
নোয়াখালী-২(সেনবাগ) আসনে, এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সুলতান মাহমুদ জাকারিয়া ও এনসিপি’র যুব সংগঠন ‘যুবশক্তি’র সংগঠক মো. কামরুজ্জামানের মধ্যে উন্নয়ন দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সুলতান মাহমুদ জাকারিয়া উল্লেখ করেন>>
সেনবাগ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সড়ক সংস্কারের টেন্ডার আহ্বানের পেছনে তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভুঁইয়া সজীব তাঁর অনুরোধেই এই সংস্কার কার্যক্রম অনুমোদনে উদ্যোগ নেন।
এছাড়া তিনি জানান, গত ২৬ মে ২০২৫ তারিখে সেনবাগের ২১টি রাস্তা মেরামত, ১৩টি নতুন সড়ক নির্মাণ, স্টেডিয়ামের বরাদ্দ, ১১টি স্কুল মাঠ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা উপদেষ্টার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সুলতান মাহমুদ জাকারিয়ার পোস্টের পরপরই যুবশক্তির সংগঠক মো. কামরুজ্জামান তাঁর দাবিকে অসত্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন—
উল্লিখিত উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর বেশিরভাগই তিনি নিজস্ব প্রচেষ্টা, যোগসূত্র এবং মাঠপর্যায়ের পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে এনেছেন। কোনোভাবেই এককভাবে বা অন্য কারও প্রচেষ্টায় এসব অনুমোদন হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কামরুজ্জামানের এই মন্তব্যের পর আবারও পাল্টা পোস্ট দেন সুলতান মাহমুদ জাকারিয়া। তিনি কামরুজ্জামানের অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে বলেন—
এ ধরনের মন্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত প্রচারসর্বস্ব, বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। উন্নয়ন কাজ দলীয় সমন্বয়, কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসেছে, একক কারও কৃতিত্ব দাবি করা অনৈতিক।
তিনি তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন
“জনাব মো. কামরুজ্জামানের সাথে এনসিপির কোন সম্পর্ক নেই।
তিনি এনসিপির সদস্য নন। সেনবাগে এনসিপি বা ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সরকারি দপ্তরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করবেন এবং আমাদেরও জানাবেন।”
সেনবাগের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই নেতার এমন পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে দলীয় সমর্থক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন— এ ধরনের বিরোধ উন্নয়নমূলক কাজের গতি শ্লথ করতে পারে।
অন্যদিকে অনেকে বলছেন— স্বচ্ছতার স্বার্থেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসা উচিত।



