জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ শাহাদাৎ হাসান শরিফ গড়ে তুললেন এক মহৎ দৃষ্টান্ত। কুড়িয়ে পাওয়া একটি স্মার্টফোন মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—মানুষ দরিদ্র হতে পারে, কিন্তু সততা কখনো দরিদ্র হয় না।
রবিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে মরকটা রাস্তার মাথা থেকে কনকাপৈত বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন শাহাদাৎ। পথে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। তারাশাইল বাজারে এক যাত্রী নেমে যাওয়ার পর অটোরিকশায় থাকা অন্য এক যাত্রী সিটে মোবাইলটি দেখতে পান। শাহাদাৎ সঙ্গে সঙ্গে ধারণা করেন, এটি নেমে যাওয়া ওই যাত্রীরই হবে।
গাড়িতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা। পরে এক যুবকের পরামর্শে সবাই সিদ্ধান্ত নেন—মোবাইলটি কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিককে মোবাইলটি ফিরিয়ে দেওয়া যাবে। সবাই একসঙ্গে গিয়ে মোবাইলটি পুলিশের কাছে জমা দেন।
কিছুক্ষণ পর ফোনটিতে কল আসে। ফোন রিসিভ করে পুলিশ পরিচয় জানতে চাইলে অপর প্রান্তে থাকা ইব্রাহিম খলিল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান—মোবাইলটি তার। তিনি প্রবাসী এবং তারাশাইল বাজারে অটোরিকশা থেকে নামার সময় ভুলে মোবাইলটি সিটে ফেলে নেমে যান। এরপর কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই শাহজালাল তাকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে যাচাই–বাছাই শেষে কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মোবাইলটি প্রকৃত মালিক ইব্রাহিম খলিলের হাতে ফিরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এএসআই শাহজালাল, এএসআই মোজাম্মেল ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“অটো থেকে নেমে ভাড়া দেওয়ার সময় সিটে মোবাইলটি রেখে দিই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফোন দিলে জানতে পারি মোবাইলটি পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, তারপর শাহাদাৎ ভাইসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এ আলম বলেন,
“দরিদ্র মানুষগুলো এখনও সৎভাবে জীবনযাপন করে—শাহাদাৎ তার প্রমাণ। দেশের বড় বড় পদে থাকা অনেক কর্মকর্তারও তার কাছ থেকে শেখার আছে। সমাজে শাহাদাৎ ভাইয়ের মতো মানুষ থাকলে সমাজ আরও সুন্দর হতো।”
অটোরিকশা চালক শাহাদাৎ হাসান শরিফ বলেন,
“মোবাইলটি আমার নয়—এটা অন্যের হক। এটি নিজের কাছে রাখলে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। বিবেকের তাড়নায় মোবাইলটি ফেরত দিয়েছি।”
সততার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সমাজে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।



