ঢাকাThursday , 4 December 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • ‎২১৩ ইটভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ১৭টি ‎লাইসেন্স নেই, তবুও প্রশাসন ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ ভাটা

    admin
    December 4, 2025 5:51 pm
    Link Copied!

    এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
    ‎
    ‎৪ ডিসেম্বর ২০২৫। কুষ্টিয়ায় সরকারি নীতিমালা অমান্য করে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। অধিকাংশ ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, তবুও মালিকরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়ম-কানুনকে উপেক্ষা করে দিব্যি ভাটা চালাচ্ছেন। তার ওপর কৃষিজমির ওপর স্থাপন করা এসব ভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবন ও কৃষির জন্য বড় হুমকি।
    ‎
    ‎পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ইটভাটার সংখ্যা ২১৩টি। এর মধ্যে বৈধ ছাড়পত্র আছে মাত্র ১৭টির, বাকি ১৯৬টি কোনো ধরনের পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই চলছে।
    ‎বৈধ ভাটাগুলোর মধ্যে ভেড়ামারায় ৩টি, দৌলতপুরে ১টি, কুমারখালীতে ৯টি এবং খোকসায় ৪টি। এর মধ্যে ২টি অটো ব্রিকস এবং বাকিগুলো জিগ-জ্যাগ প্রযুক্তির।
    ‎কুষ্টিয়া সদর এবং মিরপুর উপজেলায় একটিও বৈধ ইটভাটা নেই।
    ‎
    ‎অবৈধভাবে চলা ১৯৬টি ভাটার মধ্যে রয়েছে—
    ‎• ১টি অটো ভাটা
    ‎• ৪২টি জিগ-জ্যাগ
    ‎• ২৯টি ড্রাম চিমনি
    ‎• ১২৪টি পাকা ফিক্সড চিমনি ভাটা
    ‎
    ‎এদের মধ্যে ২১টি ভাটার মালিক হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব ভাটার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
    ‎
    ‎কৃষিজমি নষ্ট, উৎপাদন কমছে
    ‎
    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ—আইনে কৃষিজমিতে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ, তবুও প্রভাবশালী মহল তিন-চার একর করে উর্বর জমি নষ্ট করে ভাটা স্থাপন করেছে।
    ‎চলতি মৌসুমেও কৃষিজমি ও নদীতীরের পলি মাটি কেটে ইট প্রস্তুত হচ্ছে। এতে জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, কমছে খাদ্যশস্য উৎপাদন।
    ‎
    ‎নিয়ম অনুযায়ী ভাটার লাইসেন্স পেতে মাটির উৎস উল্লেখ করে হলফনামা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মালিক এ শর্ত মানছেন না।
    ‎
    ‎কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ভাটার কারণে জমি নষ্ট হচ্ছে, কাঠ পোড়ানোতে উজাড় হচ্ছে বনজ সম্পদ। ভাটার ধোঁয়া-ছাই ফসল, পরিবেশ আর মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনছে।
    ‎
    ‎সিন্ডিকেটের প্রভাব, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা
    ‎
    ‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বৈধ ভাটামালিক বলেন, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের চাপ, অর্থবিত্ত আর তদবিরের কারণেই প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কিছু ভাটামালিক উচ্চ আদালতে রিট করে আইনি জটিলতা তৈরি করেছেন। বছরে এক-দু’টি অভিযান হয়, কিন্তু পরে আর অগ্রগতি দেখা যায় না।
    ‎
    ‎পরিবেশ বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
    ‎
    ‎গবেষক গৌতম কুমার রায় জানান, দেশে ১০ হাজার ভাটার মধ্যে ৪ হাজার অবৈধ। যেখানে ৯৫ শতাংশ ভাটায় কাঠ পুড়ানো হয়। এতে বছরে প্রায় ২৫০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঠ নষ্ট হচ্ছে।
    ‎টপ সয়েল পুড়িয়ে দিলে জমির উর্বরতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। মাটি কাটার পর সেই জমি আর চাষ অথবা জলাশয় হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। ধোঁয়ার ক্ষতিকর উপাদান মানবদেহ, ফসল এবং বায়ু—সবকিছুকে বিপদের মুখে ফেলে।
    ‎তার মতে, পরিবেশ রক্ষার জন্য ব্লক ইট ব্যবহারের দিকে দ্রুত যেতে হবে।
    ‎
    ‎
    ‎
    ‎ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী দাবি করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৭৩ ভাটার মধ্যে বেশিরভাগই কয়লা ব্যবহার করে। তার অভিযোগ—দেশের কোথাও পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না, ফলে সবাইই ‘অবৈধ’ তালিকায় পড়ে যাচ্ছে। তবে তারা নিয়মিত সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
    ‎
    ‎
    ‎
    ‎পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. ইমদাদুল হক বলেন, অবৈধ ভাটা বন্ধে অভিযান শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সবগুলোতেই অভিযান চলবে।
    ‎
    ‎অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সব অবৈধ ভাটা ধ্বংস করা হবে। তবে সময়সীমা জানতে চাইলে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
    ‎

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST