(ঘাটাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মেয়ের ওপর যৌতুক নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি এক ভুক্তভোগী নারী। স্বামী মোবারক পেশায় ভ্যান চালক, স্ত্রী আলেয়া বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন ভাবে তাদের তিন মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পাড়ি দেয়। বড় মেয়ে কে বিয়ে দিয়েও শান্তি পেলনা মা। যৌতুকের দাবীতে বিভিন্ন সময় অত্যাচার করে তার উপর। মেয়ের উপর যৌতুক নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রকার সহযোগিতা পায়নি ভুক্তভোগী নারী। উল্টে টাকা না দিলে তদন্ত করবে না এমনি অভিযোগ উঠেছে ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ রাব্বানীর বিরুদ্ধে। থানা থেকে বিচার না পেয়ে টাংগাইল পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায় আলেয়া বেগমের মেয়ে ময়নার সঙ্গে দুই বছর আগে পৌর এলকার গরু হাটি পার্শ্বে ফরমান আলীর ছেলে শাহিন মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে তার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে মাইরধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত বছর ১৭নভেম্বর মেয়ে পুনরায় শ্বশুড় বাড়ি গেলে যৌতুকের দাবীতে কিল ঘুষি মেরে ছাদের উপর থেকে ফেলে দেয় এতে করে তার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়। তার এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার কারনে হুইল চেয়ারে চলা ফেরা করে। ভুক্তভোগী জানান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ১৫ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তে থাকা ঘাটাইল থানা উপ-পরিদর্শক(এসআই) আরিফ রাব্বানী কাছে দেওয়া হলে তিনি তদন্তের জন্য টাকা দাবী করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিলেও কোন প্রকার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, তদন্ত করে আসার পর বিবাদী আমার উপর আরো ভয়নায়ক রূপ ধারন করে। বিষয়টি থানায় জানানোর পর আমাকে গাল মন্দ করে এবং আমায় অভিযোগ পত্র ফেরৎ নিয়ে যেতে বলে এমনকি আমার বিষয়ে কোন তদন্ত করতে পারবে না বলে এস আই আরিফ রব্বানী জানিয়ে দেন, এবং থানায় থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা করবে না। কাল ক্ষেপন করে মামলার আলমত ও নষ্ট করে ফেলেও বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আরিফ রব্বানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোনো খারাপ ব্যবহার করেননি এবং আলামত নষ্টের ঘটনাও ঘটেনি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার।


