বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনা জেলার সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সামাজিক জবাবদিহিতা ভিত্তিক একটি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমটি পরিচালনা করেছে ইয়ুথ ফর পলিসি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বরগুনা জেলার তরুণ স্বেচ্ছাসেবক দল।
এই কার্যক্রমে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এলাকার কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং নারীদের অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইতিপূর্বে ইয়ুথ ফর পলিসির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সামাজিক জবাবদিহিতা বিষয়ে বরগুনা জেলার ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বুড়িরচর গ্রামে সামাজিক জবাবদিহিতার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারী অধিকার, সরকারি সেবা ও পরিবেশ—তথ্য সংগ্রহ করেন।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। গবেষণায় এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অভাব চিহ্নিত হয়। সামাজিক জবাবদিহিতা অ্যাডভোকেসির এই পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকরা গবেষণার ফলাফল প্রতিবেদন ও সুপারিশ তুলে ধরার লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইয়ুথ ফর পলিসি বরগুনা জেলার তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান শামীম জানান, নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো বাল্যবিবাহ ও সামাজিক সচেতনতার অভাব। তিনি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বরগুনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মোঃ জাকির হোসেন বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্বলতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা অনেক ক্ষেত্রে যুবকদের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া বরগুনা জেলার উপব্যবস্থাপক, বিসিক, জনাব কাজী তোফাজ্জেল হক বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্থানীয় শিল্প উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাজারভিত্তিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
লোকবেতার ৯৯.৯-এর পরিচালক মনির হোসেন কামাল বলেন, যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য স্থানীয়ভাবে শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বরগুনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম. সুলতান মাহমুদ বলেন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কম। তাই নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎসাহ প্রদান প্রয়োজন।
এই কার্যক্রমে সাক্ষাৎকৃত স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিরা জানান, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন । পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইয়ুথ ফর পলিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও যুবসমাজের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের সামাজিক জবাবদিহিতা ভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



