নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সংঘটিত আলোচিত নির্বাচনী সহিংসতার সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ ঘটনার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় হতাহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
২০১৯ সালের ১৮ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিহত হন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন। ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘নির্বাচনী সহিংসতায় আহত-নিহত পরিবার পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবার ও আহতরা অভিযোগ করেন, সাত বছরেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রহস্যজনক কারণে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির শিকার হয়েছে। দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকা এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় কয়েকজন আহত ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শারীরিক ও মানসিক ক্ষত আজও তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভাবে তাদের জীবনযাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে, আহত ও নিহত পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
কর্মসূচি শেষে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান ঘটাবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাউয়ুমসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, আহত-নিহত পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



