মাহবুব হাসান স্টাফ রিপোর্টার
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের অর্থে নির্মিত ব্রিজে নকশা ও নির্মাণমানের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি; বরং কাঠামোগত নিরাপত্তা উপেক্ষা করে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী–করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত মান অনুযায়ী যেখানে অন্তত ৫ ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই থাকার কথা, সেখানে তা কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ ইঞ্চিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এছাড়া নকশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে রড বসানোর কথা থাকলেও প্রায় এক ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্মাণ কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পর্যাপ্ত রডের অভাবে পরবর্তীতে ঢালাইয়ের কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি স্থায়ী অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নজরে এলে এলাকাবাসী কাজের সময়ই প্রতিবাদ জানান। এরপর তড়িঘড়ি করে কিছু রড এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ চলাকালে সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকেই প্রায় পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট সংগ্রহ করে কাজ শেষ করা হয়, যা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্রিজটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও তা কমিয়ে ৪৫ ফুটে নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থের বাইরে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। তাঁর দাবি, ব্রিজের মূল কাঠামোর বাইরে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে এবং এতে নির্মাণকাজের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানিয়েছেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথমে দেড় লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে ব্রিজের ঢালাই সম্পন্ন করা নিয়মবহির্ভূত এবং এটি প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং জনস্বার্থে ব্রিজটি টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ করা হোক।


