এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার সরকারি কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশাল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একা লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, গত দুই বছরে কলেজের ১২০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন খাতের নামে প্রায় ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙার শপথ নিয়েছেন, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে কলেজের একাদশ শ্রেণির ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফির একটি তালিকা (ছবিসহ) পোস্ট করেন ছাত্রনেতা মিজানুর। সেখানে তিনি সুনির্দিষ্ট ভাবে অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য মিজানুরের ফেসবুক স্ট্যাটাস টি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
> আমি একাই কক্সবাজার সরকারি কলেজ প্রশাসনের সিন্ডিকেট ভাঙ্গব। আমরা ১২০০ শিক্ষার্থী ২ বছরের, কলেজকে প্রায় ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি। খাত ছাড়া, বিবিধ বাবদ ফি নেওয়া হয়েছে, দুই বছরে প্রায় ২,৪০,০০০ টাকা। এগুলোর হিসাব নিয়ে তারপর বিদায় নিব। এর আগে নাহ। যারা কলেজে তথ্য বিক্রি করেছেন, তাদেরও হুশিয়ার করে দিতেছি। বিপ্লবীরা বিপ্লবের পথে চলে।
পোস্টের শেষে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন **দুদক, কক্সবাজার** কে ট্যাগ করে বিষয়টি তদন্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শিক্ষার্থীর আপলোড করা কলেজ প্রশাসনের ফি সংক্রান্ত তালিকায় দেখা যায়, সরকারি ফি, বোর্ড ফি এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ ফি মিলিয়ে একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২,৩৮৭ টাকা থেকে ২,৬৮৭ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘বিবিধ’, ‘উন্নয়ন তহবিল’, ‘নিরাপত্তা প্রহরী’ ও ‘মসজিদ ফি’র মতো নানা খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মিজানুরের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ‘বিবিধ’ খাতের নামে বিপুল অর্থ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে কাটা হচ্ছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি একাই লড়ার ঘোষণা দিলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই তার এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আবার অনেক তার পাশে থেকে আন্দোলন এ শরিক হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছে, আবার অনেকে বাহবা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস যোগাচ্ছে।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর এমন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি কলেজে যেখানে শিক্ষা ব্যয় স্বল্প হওয়ার কথা, সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই বিপুল অঙ্কের ফি আদায়ের স্বচ্ছতা কতটুকু?
এখন দেখার বিষয়, মিজানুরের এই ‘বিপ্লবী’ ঘোষণার পর দুদক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কলেজের আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখতে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে কি না।



