এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রশস্ত সড়কের অভাব আর প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। রাষ্ট্র শুধু শোক প্রকাশ করেই দায় সারছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের দেখা নেই। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী ‘মারসা পরিবহন’-এর দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা:- পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগতির মারসা পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখী অপর একটি মারসা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, কক্সবাজারগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহত:- দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে – মো. আব্দুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), লোহাগাড়া থানা।
যানজটে স্থবির মহাসড়ক:- দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে দীর্ঘ সময় পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য:- দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দীন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:- স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত না করলে এমন অকাল মৃত্যু থামানো সম্ভব নয়। একটি সড়কের অভাবে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার, অথচ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজও শুরু হয়নি টেকসই উন্নয়নের কাজ।


