রাব্বি রহমান নীলফামারী প্রতিনিধি
উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীর দারোয়ানীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ১ হাজার শয্যার “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল”। প্রায় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই বৃহৎ প্রকল্পকে ঘিরে জেলায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও আশাবাদ।
শনিবার (৯ মে) সকালে ৬ সদস্যের একটি চীনা প্রতিনিধি দল নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী এলাকায় হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত প্রায় ২৫ একর জমি পরিদর্শন ও প্রাথমিক সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিনিধি দলটি হাসপাতালের সম্ভাব্য অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ ও সার্বিক বাস্তবায়ন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, এনডিসি, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোঃ আবু জাফর, নীলফামারী পৌর প্রশাসক মোঃ সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ সমগ্র রংপুর বিভাগের মানুষ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিজ এলাকাতেই পাবেন। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে এবং উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, ক্যান্সার ইউনিট, হৃদরোগ বিভাগ, শিশু ও মাতৃসেবা ইউনিট, বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং চিকিৎসক-নার্সদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মেডিকেল প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগও রাখা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, “এটি শুধু একটি হাসপাতাল নয়, নীলফামারীর জন্য একটি স্বপ্নের প্রকল্প। বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা বিদেশমুখী হবে না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও চীনের যৌথ সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। ভূমি উন্নয়ন ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


