সুজন হোসেনঃ
কুমিল্লার বরুড়া পৌর সদরের ব্যস্ততম চান্দিনা রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। অসমাপ্ত ড্রেন খোলা অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরুড়া বাজারের চান্দিনা রোডস্থ কালভার্টের দুই পাশের ড্রেন নির্মাণ কাজ কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ড্রেনের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মধ্যে পড়ায় জমির মালিকদের আপত্তির কারণে কাজ এগোতে পারছে না। তবে যেসব স্থানে কোনো বাধা নেই, সেসব স্থানেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের গতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চান্দিনা রোডের শুরু থেকে হয়দার মার্কেট পর্যন্ত যে অংশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানেও এখনো ড্রেনের ওপর স্ল্যাব বা ঢাকনা বসানো হয়নি। ফলে ড্রেনগুলো খোলা অবস্থায় রয়েছে এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত লোহার রডের ধারালো মাথা বিভিন্ন স্থানে বের হয়ে আছে। কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেখানে পড়ে গেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে ঝলম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কালভার্টের দুই পাশের অসমাপ্ত খোলা ড্রেন বর্তমানে যেন দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ড্রেনে পড়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত খোলা ড্রেনগুলো নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “কিছু স্থানে জমির মালিকরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে সহযোগিতা করলে সমস্যার সমাধান করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া ড্রেনের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত খোলা অংশগুলো ঢেকে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই নির্মাণ কাজ ঝুলে থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। জনস্বার্থে দ্রুত জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


