আনিসুর রহমান মানিক,
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে নতুন করে চালু করা হয়েছে এনসিডি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ) কর্নার। হাসপাতালের ১৩৩ নম্বর কক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে এই সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধন করেন ডা. মিজানুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম, ডা. আফরোজা বেগম রীনাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মতো রোগ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এসব রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে এনসিডি কর্নার চালু করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের প্রয়োজন হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনসিডি কর্নার চালুর মাধ্যমে রোগীরা এক জায়গায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের কনসালটেন্ট মাহবুব উল আলম জানান, নতুন এই কর্নারে আগত রোগীদের রক্তচাপ পরীক্ষা, ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অ্যাজমা, কিডনি রোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে কিছু প্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নির্ধারিত রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ইনসুলিন ও ইনহেলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধও রয়েছে। এছাড়া রোগীদের সুস্থ জীবনধারা, নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, এনসিডি কর্নার চালুর ফলে জেলার সাধারণ মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার রোগীরা দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ সহজে পাবেন। একই সঙ্গে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জটিলতা কমাতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


