এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার পর্যটন জোন এলাকার হোটেল-মোটেল জোনে সুবিধা বঞ্চিত ও পথ শিশুদের মাঝে ঈদ-পরবর্তী আনন্দ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক ও জুতা বিতরণ করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রিভেনশন অব ভায়োলেন্স অ্যান্ড হার্মফুল প্র্যাকটিসেস এগেইন্সট চিলড্রেন অ্যান্ড উইম্যান ইন বাংলাদেশ(পিভিএইচপি) প্রকল্পের আওতায় এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুধবার ১৫ জুলাই সকাল ১১টায় পর্যটন জোনে পথ শিশুদের জন্য বিশেষভাবে স্থাপিত শৈবাল শিশু সুরক্ষা হাব – এ এই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পথশিশুদের হাতে নতুন পোশাক ও জুতা তুলে দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ পরিচালক সুব্রত বিশ্বাস। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন চাইল্ড রাইটস অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেলা পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে পিভিএইচপি প্রকল্পটি সফল ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অবহেলিত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
আজকের কর্মসূচিতে সুরক্ষা হাবে আসা মোট ৩৫ জন পথ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সকালে হাবে আসার পরপরই তাদের পুষ্টিকর নাস্তা দেওয়া হয় এবং দুপুরে পরিবেশন করা হয় উন্নত মানের খাবার। খাবারের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই ৩৫ জন শিশুর প্রত্যেককে তাদের পছন্দসই শার্ট, প্যান্ট, ফ্রক ও জুতা উপহার দেওয়া হয়। নতুন পোশাক ও জুতা পেয়ে শিশুদের মাঝে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কেবল খাদ্য ও পোশাক বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সুরক্ষার লক্ষ্যে হাবে বিশেষ সচেতনতা মূলক সেশন ও পরিচালনা করা হয়। দুজন দক্ষ কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরের পরিচালনায় শিশুরা জীবন দক্ষতা মূলক (Life Skills) ও বিভিন্ন সচেতনতা মূলক সেশনে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে পথ শিশুরা নিজেদের কীভাবে সুরক্ষিত রাখবে এবং মৌলিক আচার-আচরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে, সে বিষয়ে ধারণা লাভ করে।
পোশাক বিতরণকালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ভিড়ে এই পথ শিশুরা প্রায়শই অবহেলা ও বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। পিভিএইচপি প্রকল্পের আওতাধীন এই শৈবাল শিশু সুরক্ষা হাব শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, পুষ্টি ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে – এটাই আমাদের সার্থকতা। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।


