ঢাকাWednesday , 15 July 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • যশোরের হৈবতপুর এলাকা সবজির ‘স্বর্গরাজ্য কৃষি কর্মকর্তাদের অবহেলায় ক্ষুব্ধ প্রন্তিক চাষিরা

    admin
    July 15, 2026 7:32 pm
    Link Copied!

    ​উত্তম কুমার শীল :

    যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়ন এলাকায় ​দেশের এক-তৃতীয়াংশ সবজির জোগান যায় যে অঞ্চল থেকে, সেখানেই চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

    সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, সার-ওষুধ কিংবা সঠিক সময়ে পরামর্শ—কোনোটাই পৌঁছাচ্ছে না মাঠপর্যায়ে। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা ব্লক ও মথুরাপুর এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে দেখাই পাওয়া যায় না। অথচ, ইউনিয়ন ডরমিটরিতে থাকার নিয়ম থাকলেও কর্মকর্তারা থাকছেন শহরের বিলাসবহুল এলাকায়।

    ​অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতিয়ানতলা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুণ বিশ্বাস ও মারুফ সুলতানকে সরকারি ডরমিটরিতে থাকার নির্দেশ থাকলেও তারা থাকেন যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায়।

    ​ডরমিটরিতে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণ বিশ্বাস বলেন,

    ​”ইউনিয়ন অফিসে আমাদের বসার জায়গা নেই, তাই আমরা এখানে (ছাতিয়ানতলা) বসে কাজ করি। আর ডরমিটরি বিল্ডিংয়ের অবস্থা ভালো না, তাই ওখানে থাকি না।”

    ​তবে তার এই দাবির বিপরীতে দেখা গেছে, দেয়ারা ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জহির ঠিকই ওই ছাতিয়ানতলা ডরমিটরিতে থাকছেন। অন্য ইউনিয়নের কর্মকর্তা কীভাবে এই ডরমিটরিতে থাকছেন এবং ছাতিয়ানতলার নিজস্ব কর্মকর্তারা কেন বাইরে থাকছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    ​মাঠপর্যায়ে তদারকির বিষয়ে মারুফ সুলতান দাবি করেন, তারা ভোরে বের হয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেন। তবে গত কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকেও এই দুই কর্মকর্তাকে এক জায়গায় বসে গল্প করতে দেখা গেছে।

    ​ মথুরাপুর এলাকায় পটল, ঝিঙে, কচু, মরিচ, শিম, বেগুন, উচ্ছে, পেঁপে, পাট ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা রকমের সবজি প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়। অথচ এই অঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

    ​হৈবতপুরের ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করা কৃষক শুকুর আলী আক্ষেপ করে বলেন,

    ​”আমাদের এখানে কেউ খোঁজ নিতে আসে না। কৃষি কর্মকর্তা পুরুষ নাকি মহিলা—সেটাই আমরা কৃষকেরা জানি না।”

    ​আরেক সবজি চাষি আব্দুল করিম (৩ নং হৈবতপুর) জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। তার ক্ষোভ,

    ​”আমাদের সরকারি সার-ওষুধের প্রয়োজন নেই। কিন্তু কর্মকর্তারা এসে যদি একটু পরামর্শ দিতেন, তাহলে আমাদের কষ্টার্জিত সবজিগুলো এভাবে নষ্ট হতো না। এখন আমরা নিজেদের বুদ্ধিতেই চাষ করছি।”

    ​৩ বিঘা জমিতে চাষ করা পারভেজ বলেন,

    ​”কর্মকর্তারা এলাকায় এসে দু-একজন পরিচিত চাষির সাথে টুকটাক ‘গুড-নুন’ (কুশল বিনিময়) করে চলে যান। আমাদের মূল সমস্যাগুলো নিয়ে তারা কখনোই কোনো আলোচনা করেন না।”

    ​কৃষকদের অভিযোগ, সরকার থেকে সার, বীজ ও ওষুধের যে অনুদান দেওয়া হয়, তার কোনো সুবিধা তারা পান না।
    মোহাম্মদ ইসলাম ৪ বিঘা জমি চাষ করি “আমরা কানে শুনি সরকার নাকি ফ্রিতে সার-ওষুধ দেয়, কিন্তু আমাদের কপালে জোটে না। কোনো অফিসার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না।”
    শরিফুল ৩ বিঘা চাষি বলেন “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না।

    ইদ্রিস জানান “এত কষ্ট করে চাষ করি, সরকারের একটা টাকা বা সারও আজ পর্যন্ত চোখে দেখিনি।”
    আক্তার হোসেন বলেন “ভয়াবহ বৃষ্টির পর আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।

    ​স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ছাতিয়ানতলায় একটি বড় সবজির বাজার রয়েছে। এখানে যদি কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থেকে কৃষকদের জন্য নার্সারি বা চারা উৎপাদনের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতেন, তবে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও উন্নত হতো।

    ​এসব বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।
    ​তিনি বলেন,​”যেহেতু তাদের বসার নির্দিষ্ট জায়গা নেই, তাই তারা ছাতিয়ানতলা ব্লক কার্যালয়ে বসেই কাজ করছেন। শুধু একজনের কথায় তো বিচার করা যাবে না, আপনারা তাদের সাথে নিয়ে কৃষকদের মুখোমুখি বসে কথা বলুন।

    ​ডরমিটরির বেহাল দশা ও কর্মকর্তাদের শহরে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সব কর্মকর্তা তো আর ওই পরিবেশে থাকতে পারেন না, তাই তারা বাইরে থাকেন।

    ​তবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং না হওয়া এবং সবজি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের এমন হাহাকার দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST