জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি সর্বাধুনিক এসভিডি ড্রাগুনভ স্নাইপার রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মায়ানমার থেকে নদীপথে এনে সীমান্ত পার করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে এসব আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।
বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়—একটি অসাধু চক্র মায়ানমার থেকে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের একটি চালান পৌঁছাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন টেকনাফ আজ ১৯ আগস্ট মধ্যরাত ১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টেকনাফ থানাধীন নাফ নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহ ভাজন কাঠের বোটকে থামার সংকেত দেয় কোস্ট গার্ডের টহল দল। কিন্তু বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে টেকনাফের নাইট্যং পাড়া প্যারাবনের ভিতর প্রবেশ করে। ধরা পড়ার আশঙ্কায় চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা বোটটি ফেলে গহিন প্যারাবনে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিত্যক্ত বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে মাছ ধরার জালের ভেতর অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায়:- ১টি বিদেশি SVD Dragunov (এসভিডি ড্রাগুনভ) রাইফেল (ম্যাগাজিনসহ), ১টি ৯ মি.মি. বিদেশি পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), ২২৯ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গোলা, ২ রাউন্ড তাজা ও ১ রাউন্ড ফাঁকা পিস্তলের গোলা এবং ২টি এমএ-১ রাইফেলের ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকায় কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। এই অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও আটক করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও জব্দকৃত বোটের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সীমান্তপথে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


