ঢাকাSunday , 7 September 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • জীবনকে গড়ি: আত্মহত্যা প্রতিরোধ করি

    admin
    September 7, 2025 4:11 pm
    Link Copied!

    সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী //

    আমাদের সবার জীবনটাই এক একটা গল্প। আর এই গল্প গুলোর মাঝে রয়েছে হাসি, কান্না, স্বপ্ন আর কঠিন সংগ্রামের নানান বাস্তব চিত্র। কিন্তু কখনো কখনো জীবনের নানান পটপরিবর্তনের কারণে আমরা কিছু কঠিন অধ্যায়ে এমন এক অন্ধকারে ডুবে যাই, যেখানে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়। তখন আমাদের মনে হতে পারে, এই গল্পের আর কোনো ভালো সমাপ্তি নেই। এমন দুঃখজনক পরিস্থিতিতেই অনেকে ভুল করে আত্মহত্যাকেই তাদের গল্পের সমাপ্তি হিসাবে বেছে নেয়। যা তাদের এবং তাদের পরিবারকে এক অন্ধকার গহব্বরে পতিত করে।

    আর এই কারণেই প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর আমরা বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করি। এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো—আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের সবার মনে যে ক্ষীণ ইচ্ছা বা নীরবতা আছে, সেটা ভেঙে দেওয়া। একইসাথে আত্মহত্যা নিয়ে মন খুলে কথা বলা এবং আত্মহত্যা প্রবণ ব্যাক্তিদের সাহস দেওয়া ও তাদের পাশে থাকা।

    এই দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানসিক কষ্ট নিয়ে লুকিয়ে থাকা নয়, বরং খোলামেলা কথা বলাটাই জরুরি। কারণ, আমরা যত বেশি এই বিষয়টা নিয়ে চুপ থাকব, তত বেশি আত্মহত্যা প্রবণ ব্যাক্তিরা একা হয়ে যাবে, আর সাহায্য চাইতে ভয় পাবে।

    এই কারণে ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য হলো “Changing the Narrative on Suicide” বা “আত্মহত্যা নিয়ে ধারণা বদলানো”। এই প্রতিপাদ্যটা আমাদের শেখায় যে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান কিংবা লজ্জার বিষয় নয়। এটা একটা গুরুতর মানসিক সমস্যা, যার সমাধান সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য শুনলে আমরা চমকে যাব—প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। এটা শুধু একটি পরিবারের জন্য শোক নয়, বরং একটি সমাজ ও দেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তাই এই দিবসটি শুধু সচেতনতার জন্য নয়—এটি আমাদের সবার জন্য এক মানবিক দায়িত্বের দিন। যা আমাদের দুর্বলদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করে ও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন করে তোলে।
    আত্মহত্যা কেন ঘটে?
    আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তির হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয় বরং এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট, সামাজিক চাপ এবং শারীরিক যন্ত্রণা। একেকজনের ক্ষেত্রে কারণ একেক রকম হতে পারে, কিন্তু কিছু সাধারণ কারণ প্রায় সবার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। যেমন:
    মানসিক চাপ: যখন মন ভেঙে যায়
    আমাদের শরীর যেমন অসুস্থ হতে পারে, মনও তেমনি অসুস্থ হয়। যখন আমাদের মন খুব বেশি কষ্টে থাকে, তখন সেটাকে আমরা বিষণ্নতা বা হতাশা বলি। দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা, একাকিত্ব বা চরম দুশ্চিন্তা একজন মানুষকে তার জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে। ধরুন, আপনি এমন এক ঘরে আছেন, যেখানে সব জানালা বন্ধ, আলো ঢোকার কোনো পথ নেই। তখন আপনার মনটাও এমন অন্ধকার হয়ে যায় যে, মনে হয় আর কোনো আলো অবশিষ্ট নেই। আর এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে কোনো মানুষই মনের ভেতরের তীব্র যন্ত্রণাটা আর সহ্য করতে পারে না। তখনই অনেকে ভুল করে ভাবে যে আত্মহত্যাই একমাত্র মুক্তির উপায়।
    সামাজিক ও পারিবারিক কারণ: সম্পর্কের টানাপোড়েন
    আমাদের জীবনের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব। কিন্তু যখন সেখানে অশান্তি হয়, যেমন—পরিবারে ঝগড়া, দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ বা কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, তখন আমাদের মন খুব একা হয়ে যায়। আজকালকার দিনে বুলিং বা কাউকে নিয়ে বাজে কথা বলাও একটা বড় সমস্যা। স্কুলে বা অনলাইনে অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা বুলিংয়ের শিকার হয়, যা তাদের মনে গভীর আঘাত তৈরি করে। এছাড়া, আর্থিক সংকট বা পড়াশোনায় ভালো ফল না করার চাপও অনেক সময় আত্মহত্যার দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়।
    শারীরিক ও দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা: যখন শরীর ও মন দুটোই কষ্ট পায়
    শরীরের অসুখ হলে শুধু শরীর কষ্ট পায় না, বরং মনও তীব্র কষ্টে থাকে। বিশেষ করে দুরারোগ্য অসুখ যেমন—ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা—শুধু শরীরকে দুর্বল করে না, মনকেও ভেঙে দেয়। অনেকে মনে করেন, তিনি হয়তো পরিবার বা সমাজের জন্য একটা বোঝা হয়ে গেছেন। এই ভাবনাটা যখন মাথায় গেঁথে যায়, তখন আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই, শুধু শরীরের যত্ন নিলেই হবে না, মনেরও যত্ন নেওয়াও জরুরি।

    সঠিক সহায়তার অভাব: নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ
    আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, মনের কথা বলার মতো কাউকে না পাওয়া। অনেকে নিজের কষ্ট নিয়ে একা থাকেন। আবার, আমাদের সমাজে মানসিক রোগ নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে। অনেকেই ভাবে, মানসিক রোগের কথা বললে মানুষ হাসাহাসি করবে বা পাগল বলবে। এই ভয়ের কারণে তারা সাহায্য চাইতে পারে না। এই নীরবতাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। যদি একজন মানুষ তার মনের কথা কাউকে বলতে পারত, তাহলে হয়তো সে নিজের কষ্টের কথা বলে হালকা হতে পারত এবং ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারত।
    আশার আলো: আমরা কী করতে পারি?
    আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা সবাই যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াই, খোলাখুলি কথা বলি, আর সাহায্য নিতে বা দিতে পিছপা না হই, তাহলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।
    কথা বলা ও শোনা: একজন শ্রোতাই পারে জীবন বাঁচাতে
    সবচেয়ে জরুরি হলো মন খুলে কথা বলার একটা পরিবেশ তৈরি করা। আপনার বন্ধু বা পরিবারের কেউ যদি মন খারাপ করে থাকে, তাকে শুধু জিজ্ঞেস করুন, “তুমি কেমন আছ?” এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার সমস্যা শোনার সময় তাকে বিচার করবেন না, শুধু ধৈর্য নিয়ে তার পাশে থাকুন। মনে রাখবেন, একজন দিকহারা মানুষ যখন নিজের কষ্টের কথা বলে হালকা হয়, তখন সে একধরনের আশ্রয় ও সহানুভূতি অনুভব করে। আর এভাবেই একজন সহানুভূতিশীল শ্রোতা হয়ে যেকেউ যেকোনো আত্মহত্যা প্রবণ ব্যাক্তির জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।
    পাশে থাকা: একা নয়, আমরা আছি
    যে মানুষটা হতাশ বা বিষণ্ন, তাকে একা থাকতে দেবেন না। তাকে বোঝান যে সে একা নয়, আপনি তার পাশে আছেন। তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যান, তার পছন্দের কাজগুলো করার চেষ্টা করুন। তাকে অনুভব করান যে, তার জীবনটা অনেক মূল্যবান এবং তার পাশে অনেক মানুষ আছে।
    বিশেষজ্ঞের সাহায্য: পেশাদারি সহায়তা নিতে উৎসাহ দিন
    শারীরিক অসুস্থতায় আমরা যেমন ডাক্তারের কাছে যাই, তেমনি মানসিক সমস্যায়ও একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মনোরোগ চিকিৎসক বা কাউন্সেলরদের কাছে যেতে উৎসাহিত করুন। পেশাদার সহায়তা মানসিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আপনার পরিচিত কেউ যদি কষ্ট পায়, তাকে বলুন—ডাক্তারের কাছে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।
    হতাশার লক্ষণ চেনা: নীরব সংকেতগুলো চিহ্নিত করুন
    আপনার কাছের মানুষটি হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে গেছে, একা একা থাকছে, নিজেকে লুকিয়ে রাখছে, তার খাওয়া-ঘুমের অভ্যাস বদলে গেছে, চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ, যে কাজগুলো তার আগে ভালো লাগত, সেগুলোতে তার আর আগ্রহ নেই, অথবা সে হঠাৎ করে “আমি আর পারছি না” এই ধরনের কথা বলছে। তাহলে বুঝতে হবে এগুলো আত্মহত্যার নীরব সংকেত। এই লক্ষণগুলো দেখলে তাকে একা থাকতে দেবেন না এবং দ্রুত সাহায্য করার চেষ্টা করুন এবং মন খুলে কথা বলার চেষ্টা করুন।
    মনের যত্ন নেওয়া: নিজেকে সময় দিন
    মনের যত্ন নেওয়াটাও শরীরের যত্নের মতোই জরুরি। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য নিজের পছন্দের কাজ করুন, যেমন—ছবি আঁকা, গান শোনা, অথবা বই পড়া। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান। এসব মনকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
    সম্মিলিত উদ্যোগ: সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা
    আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য শুধু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
    সচেতনতা বৃদ্ধি: ছোটবেলা থেকেই শুরু হোক আলোচনা
    স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা দরকার। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করতে হবে। এই বিষয়ে লজ্জা বা ভয় দূর করতে হবে।
    মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা: সবার জন্য চিকিৎসা
    প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ চালু করা উচিত। পাশাপাশি, গরিব মানুষের জন্য কম খরচে বা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। যখন কেউ সহজে চিকিৎসা পাবে, তখন আত্মহত্যার ঝুঁকিও কমে আসবে।
    জাতীয় হেল্পলাইন: প্রয়োজনে এক কলেই সাহায্য
    মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন যে কেউ যাতে সহজেই সাহায্য পেতে পারেন, সেজন্য একটি ২৪ ঘণ্টার কার্যকর জাতীয় হটলাইন চালু করা খুব জরুরি। যখন কেউ খুব বেশি হতাশায় থাকে, তখন একজন অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলাও অনেক সময় তাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
    মিডিয়ার দায়িত্ব: ইতিবাচক খবর প্রচার
    মিডিয়াকে আত্মহত্যার খবর প্রচারের ক্ষেত্রে খুব দায়িত্বশীল হতে হবে। আত্মহত্যাকে কোনোভাবেই উৎসাহিত বা গ্ল্যামারাইজ করে এমন খবর প্রচার করা উচিত নয়। বরং, যারা মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে, তাদের সফলতার গল্পগুলো বেশি করে প্রচার করা উচিত।
    আলো আসবেই
    জীবন একটা অমূল্য উপহার, যা একবারই পাওয়া যায়। আমাদের জীবনে যতই গভীর সমস্যা আসুক না কেন, তার সমাধান আত্মহত্যা নয়। আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াই, মনের কথা শোনার সুযোগ দিই, এবং সহানুভূতি দিয়ে এগিয়ে আসি—তাহলে অসংখ্য জীবন বাঁচানো সম্ভব।

    এই বছরের প্রতিপাদ্য “Changing the Narrative on Suicide” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আর নীরবতা নয়, এবার আশার আলো জ্বালানোর সময় এসেছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে জীবনকে ভালোবাসি, অন্যকে ভালোবাসি, আর একসাথে গড়ে তুলি এমন এক সমাজ যেখানে কেউ আর একা থাকবে না, কেউ আর নীরবে হারিয়ে যাবে না।

    আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তার জন্য কিছু জরুরি নম্বর:
    জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল: 02-58000550
    কান পেতে রই (মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা): 01867180000
    মনের বন্ধু: 01777085731
    হাসিখুশি হেল্পলাইন: 01322238478
    ডিপার্টমেন্ট অব সাইকোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: 01521556801

    এই নম্বরগুলোতে কল করে আপনি ২৪ ঘণ্টা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।

    সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী
    লেখক ও সমাজ গবেষক

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST