মো নাহিদুর রহমান শামীম, মানিকগঞ্জ থেকে//
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলার সকল দূর্গা পূজার মন্ডপে ভক্তি ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে।
পূজার নিয়ম অনুযায়ী ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ, অধিবাস ও পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আচার-অনুষ্ঠান সপ্তমীতে এসে অন্নভোগ ও দেবী জাগরণের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে।
আজ সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মাধ্যমে শুরু হয় আজকের পূজা। ভক্তরা মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ, আরতি ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আরাধনায় নিমগ্ন হন।
প্রথা অনুযায়ী, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। কলাগাছসহ নয় প্রকারের পাতা- কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান একত্র করে শাড়ি পরিয়ে প্রতিমার পাশে স্থাপন করা হয়। এই নবপত্রিকাই “কলাবউ” নামে সর্বজনবিদিত, যা দেবীর শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, সপ্তমীর তিথিতেই দশভুজা মহামায়া অশুভ শক্তি দমন করতে অবতীর্ণ হন।
এবার দেবী এসেছেন গজে (হাতির পিঠে), যা সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে তিনি বিদায় নেবেন দোলায় (পালকিতে), যা শাস্ত্রমতে মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিমৃত্যুর শঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।
এবার মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ৫৫৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামীকাল মহাঅষ্টমী, পরশু মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব।



